ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
প্লাস্টিক বর্জ্য, শেওলা ও দূষণে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল নদী। প্রশাসনের অপেক্ষায় না থেকে সেই নদীকে নিজের হাতে পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের ২১ বছর বয়সী তরুণ সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত এই তরুণের উদ্যোগ এখন প্রশংসিত হচ্ছে দেশ-বিদেশে। এমনকি তার কাজ দেখে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’ তাকে কাজের প্রস্তাব দিয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার বিয়োরা শহরের বাসিন্দা সুরেন্দ্র বর্তমানে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। স্থানীয় আজনার নদীর তীরে একটি মন্দিরের কাছে প্লাস্টিকের স্তূপ, শেওলা, কাদা ও দুর্গন্ধ দেখে তিনি নদীটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। গত ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে শুরু হয় তার এই অভিযান।
প্রথম দিকে কয়েকজন বন্ধু তার সঙ্গে থাকলেও পরে প্রায় পুরো কাজটাই একা করতে হয়েছে তাকে। সাঁতার না জানা সত্ত্বেও কোনো পেশাদার সরঞ্জাম বা নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়াই স্থানীয়ভাবে তৈরি সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তুলে আনেন তিনি।
নদী পরিষ্কারের সরঞ্জাম কিনতে নিজের জমানো অর্থও খরচ করেন বিট্টু। দীর্ঘদিন নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে একাধিকবার হাত-পায়ে সংক্রমণ ও ত্বকের সমস্যায় ভুগেছেন। কাজের সময় বিষাক্ত সাপের মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাকে।
তার নদী পরিষ্কারের পুরো কার্যক্রম ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। নদীর আগের ও পরের চিত্র দেখে মুগ্ধ হন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বয়া সেন স্ল্যাট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিট্টুর কাজের একটি পোস্ট রিটুইট করে বয়া সেন স্ল্যাট সরাসরি তাকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘এসো, আমাদের সঙ্গে কাজ করো।’ তার এই আহ্বানই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিট্টুর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিট্টুর উদ্যোগের খবর পৌঁছেছে মধ্যপ্রদেশের প্রশাসনের কাছেও। তার কাজের প্রশংসা করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তাকে মুখ্যমন্ত্রী ভবনে আমন্ত্রণ জানান। শুক্রবার রাতে তাদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। এ সময় মুখ্যমন্ত্রী বিট্টুর পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
সাধারণ পরিবারের এই তরুণের একক প্রচেষ্টা এখন শুধু একটি নদী পরিষ্কারের গল্প নয়; বরং ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।