নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
প্রতিকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার রাতে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করে তেহরান।
জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি
আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করে, হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং মার্কিন কয়েকজন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ঘাঁটির কয়েকটি কারিগরি অবকাঠামোতে আগুন ধরেছে বলেও দাবি করা হয়।
তবে এসব দাবি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে ১০টি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। বাকি তিনটি জনবসতি থেকে দূরে প্রত্যন্ত এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহত বা প্রাণহানি হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটি।
ক্যাম্প তিতিনেও হামলার দাবি
এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিনে’ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাক লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল আইআরজিসি। এতে অনেক মার্কিন সেনা নিহত এবং কয়েকটি স্থাপনা ও ‘অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করে তারা।
তবে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক মার্কিন সূত্রের ভাষ্য, ওই হামলায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। মার্কিন বাহিনী হামলাটি প্রতিহত করেছে বলেও দাবি করা হয়।
ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় হামলা
উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করেও সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।
সংস্থাটির দাবি, হামলায় একটি মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামের গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।
কুয়েতে ড্রোন হামলা প্রতিহতের দাবি
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘শত্রু ড্রোন’ হামলা প্রতিহত করেছে। কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের যে শব্দ শোনা গেছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ভূপাতিত করার কারণে হয়েছে।
কুয়েতি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ইরানের আগ্রাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে।
বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি ও রাডার লক্ষ্য করে ড্রোন
বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন ছোড়ার দাবিও করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডার’-এর ২৯তম ধাপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, শেখ ইসা বিমানঘাঁটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র, যেখানে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোনের যন্ত্রপাতি এবং নজরদারি উড়োজাহাজ পরিচালনার কার্যক্রম রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় মার্কিন বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার খবর এসেছে।
গত জুলাইয়ের পর রোববার রাতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর মঙ্গলবার ইরানে নতুন করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এসব হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত চালালে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।