ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল শেষ পর্যন্ত বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিতে রাজি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের নিখোঁজ নাগরিকদের উদ্ধারে টানেল উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা ও ফরেনসিক কাজে সীমিত পরিসরে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি দলকে কাজের অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার।
শুক্রবার প্রথমে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছিলেন, ভোতে কোশি নদীর বন্যাকবলিত এলাকায় আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।
একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নেপালের ওপর ব্যাপক চাপ ছিল। এ কারণে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সীমিতসংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকাল পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও তিব্বতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৪ জনে। এর মধ্যে নেপালেই ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। চীনের তিব্বতে মারা গেছেন পাঁচজন। দুই দেশে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৮২ জন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়—১৭৮ জন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, ইউক্রেনের ৫৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার টানেল উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা ও ফরেনসিক কাজে দক্ষ বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি দলকে নেপালে আসার অনুমতি দিয়েছে।
তবে ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য আরও কয়েকটি দেশ প্রস্তাব দিলেও সেসব অনুরোধ এখনো অনুমোদন পায়নি।
ভারত পাঠাচ্ছে উদ্ধার ও চিকিৎসা দল
নেপালে টানেল উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসক এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (NDRF) সদস্য পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভারত।
শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। একই দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জয়শঙ্কর জানান, নেপালকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং দেশটির সরকার সেগুলো মূল্যায়ন করছে। চতুর্থ দফার ত্রাণসামগ্রীর সঙ্গে ১১ সদস্যের চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও টানেল উদ্ধারকারী দলও নেপালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ারও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি
দক্ষিণ কোরিয়াও নেপালে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানালের সঙ্গে কথা বলেন এবং নেপালে থাকা দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানান।
নেপালে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার ৯ নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
চো হিউন জানান, দুর্যোগকবলিত এলাকায় পাঠানো দক্ষিণ কোরিয়ার ‘প্রম্পট রেসপন্স টিম’ যাতে নির্বিঘ্নে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চালাতে পারে, সে জন্য নেপাল সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত কোরিয়া ডিজাস্টার রিলিফ টিম (KDRT) পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে।
মৃতদেহ শনাক্তেও বিদেশি সহায়তা
বন্যা ও ভূমিধসে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতদেহ শনাক্তকরণও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপালের নিজস্ব গবেষণাগারগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এ কাজেও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট