শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us
ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির পরই এই সিদ্ধান্ত?

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৮৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত

বিশ্বব্যাপী ভিসা বন্ধ করলো ট্রাম্প প্রশাসন। চমকে দেবার মতো ঘটনা। ১ সপ্তাহ আগে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আদেশ দেন মাননীয় আদালত। ৩ দিন আগে ইউএসসিআইএস (ইউএস সিটিজেন এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস) জানায় এইচ—১ ভিসা ফি ১ লাখ ডলারে উন্নীত করা হলো। ৩ দিনের মাথায় বিশ্বব্যাপী ভিসা বন্ধ করার ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ঘনিষ্ঠরা মিডিয়াকে বলছেন, ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার ইরানী হুমকির পরপরই ট্রাম্প এ নির্দেশ দেন। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন সরকারের চলমান অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ অভিযানের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে আবেদনকারীদের জন্য ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, বিশ্বজুড়ে সমস্ত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং এই প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে ভিসা জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে সমন্বয় করা হবে।

 

ট্রাম্প জোরপূর্বক বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যানের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজা অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন—পন্থী বিক্ষোভের মতো বিষয়। তিনি দাবি করেন, এই কঠোর পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।

পররাষ্ট্র দপ্তর এই প্রশিক্ষণ ও এর সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে তারা বলেছে, এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা যাদের যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুযোগ—সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং ভিসা আবেদনকারীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি “সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে” নিশ্চিত করা। ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা সাক্ষাতের সময়সূচি স্থগিত রাখার বিষয়টি এর আগে ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’—এ প্রকাশিত হয়েছিল। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যাদের অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকার নির্ধারিত ছিল, তারা ইমেইল পেয়েছেন যে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং নতুন তারিখ সম্পর্কে তাদের পরে জানানো হবে।

 

ট্রাম্পের অভিবাসন—বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের ব্যাপক সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং তা বাকস্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারের পরিপন্থী। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আরও বক্তব্য হলো, এই কঠোর নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে—বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য, যারা ‘রেসিয়াল প্রোফাইলিং’ বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহের পাত্র হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম