নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফ্যাসিবাদ যাতে দেশে আর পুনর্বাসিত হতে না পারে এবং কেউ যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়। যারা অন্যায় ও হত্যাকাণ্ড দেখেও চোখ বন্ধ করে রয়েছেন, তাদের চোখ খুলতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ববোধ নিয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় ২০ দিনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় ৩০০ মানুষ হাত-পা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়েছেন। এসব ঘটনা ঘটলেও অনেক মানুষ এখনো বলছেন, কিছুই হয়নি।
ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা যে যেখানে থাকুন, চোখ খুলুন। আমরা যদি অপরাধ করি, আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন।’ নাগরিক হিসেবে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি সবার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে। ফ্যাসিবাদ যেন আবার পুনর্বাসিত না হয় এবং আমরাও যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠি, সে জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হতে পারে। তবে সেই ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দেশ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে সবাই কাজ করলে বাংলাদেশ আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, একসঙ্গে হাঁটি, একসঙ্গে চলি। দেশ গড়ার কাজে আমরা মনোনিবেশ করি।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সিলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।