ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পশ্চিমবঙ্গের এক ভারতীয় গৃহবধূকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুম্বাই পুলিশের বিরুদ্ধে। তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তার পরিবার। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে একটি শ্রমিক সংগঠন।
সাইদা ফকির (৪০) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগরের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী জুম্মান ফকির ও ১২ বছরের এক সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। তার স্বামী প্রায় ২০ বছর ধরে মুম্বাইয়ে গাড়ির পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। সাইদা সেখানে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
পরিবারের দাবি, গত ১৯ জুলাই বাজার করতে বের হলে মুম্বাই পুলিশ সাইদাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়। খবর পেয়ে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে সাইদার জন্মসনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয়পত্র, জমির দলিলসহ বিভিন্ন নথি পুলিশের কাছে জমা দেন।
তবে পরিবারের অভিযোগ, এসব নথি দেওয়ার পরও সাইদাকে বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সাতক্ষীরায় পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
সাইদা জানান, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর চাষের জমি ও কাদার মধ্য দিয়ে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে প্রধান সড়কে ওঠেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সহায়তা করেন। সাতক্ষীরার একটি পরিবার তাকে আশ্রয় দিয়ে খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করে।
স্বামী জুম্মান ফকিরের দাবি, তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। সাইদার আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ডসহ একাধিক ভারতীয় নথি রয়েছে। এসব নথি থাকা সত্ত্বেও যাচাই না করে তাকে কীভাবে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সাইদার পরিবার জানিয়েছে, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইদার চাচা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও সাইদার নাম রয়েছে।
এদিকে ‘পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন সাইদার নাগরিকত্ব যাচাই করে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে। গত ৮ আগস্ট দেওয়া ওই আবেদনে সাইদার আধার, প্যান ও ভোটার কার্ডসহ বিভিন্ন ভারতীয় নথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’ (মাসুম) কলকাতা হাইকোর্টে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে। সংগঠনটির দাবি, ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে অনৈতিকভাবে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে সাইদা সাতক্ষীরায় একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন। ভারতে থাকা স্বামী ও ১২ বছরের সন্তানের কাছে দ্রুত ফিরে যেতে চান তিনি।