নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাদুঘরের স্মৃতিফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সূরা ফাতিহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন এবং সেখানে সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারক পরিদর্শন করেন। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবহিত হন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। উদ্বোধনী আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণমানুষের অংশগ্রহণ, সংগ্রাম ও বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সরকারি বাসভবন গণভবনকে রূপান্তর করে এই জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে এতদিন এটি উদ্বোধন সম্ভব হয়নি। অবশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সেই সরকারের উদ্যোগে গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মারক, আলোকচিত্র, দলিল ও নিদর্শন সংরক্ষণ করে এই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা এবং শহীদ ও আন্দোলনের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখাই এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।
উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য খোলা রাখা হলেও বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা এটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।