শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ের সংকট দূর হবে তো?

জাতীয় ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ের সংকট দূর হবে তো?

দেশের শিক্ষা খাতের একটি বড় উৎসব হলো বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া। আগামী শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে সরকার ইতোমধ্যেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রায় ৩২ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সময়মতো এবং মানসম্মত বই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবার শুরু থেকেই তৎপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
৩২ কোটি বই ছাপানো মুখের কথা নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিশাল সংখ্যক বই তৈরি করতে প্রায় ৮০ হাজার টন কাগজের প্রয়োজন হবে। বিগত বছরগুলোতে প্রায়ই দেখা গেছে, কাগজের সংকট বা দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বই ছাপার কাজ সময়মতো শেষ হয় না। ফলে বছরের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছায় না।

তবে এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি চায় না সরকার। সময়মতো বই ছাপার জন্য নির্ধারিত দামে এই বিপুল পরিমাণ কাগজ সরবরাহ করতে ইতোমধ্যেই সরকারের সঙ্গে একমত হয়েছেন দেশের পেপার মিল মালিকরা। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এসেছে। শিক্ষামন্ত্রী এবার বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রত্যাশা রেখেছেন। বাস্তবতা আমরা দেখব।

আমাদের দেশে বই উৎসবের আগে প্রায়ই প্রেস মালিক এবং পেপার মিল মালিকদের মধ্যে এক ধরনের কাদা ছোড়াছুড়ি দেখা যায়। প্রেস মালিকরা বলেন কাগজ পাওয়া যাচ্ছে না, আর পেপার মিল মালিকরা বলেন সময়মতো অর্ডার দেওয়া হয়নি। এই সমন্বয়হীনতার কারণে আলটিমেটলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীরা।

এবারের বৈঠকে এই বিষয়টি সরাসরি খতিয়ে দেখেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, প্রেস ও পেপার মিল মালিকদের মধ্যকার সমন্বয়হীনতার কারণেই অতীতে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে এবার পেপার মিল মালিকরা আশ্বাস দিয়েছেন, কাগজের দাম না বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়েই তারা এই ৮০ হাজার টন কাগজ সরবরাহ করবেন। ফলে প্রেস মালিকরা যথাসময়ে কাগজ পাবেন এবং বই ছাপার কাজও গতি পাবে।

মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে কাগজের নিশ্চয়তা মেলা এক বিরাট স্বস্তি। তবে এর পরের ধাপটি হলো প্রেস মালিকদের সঙ্গে চুক্তি ও তাদের কাজের তদারকি করা। সরকার মঙ্গলবারই প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে, যা সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

৩২ কোটি বইয়ের এই বিশাল মিশন সফল করতে হলে শুধু চুক্তি করলেই হবে না, বরং নিয়মিত মনিটরিং বা নজরদারি প্রয়োজন। কাগজের মান ঠিক থাকছে কিনা এবং প্রেসগুলো দিনরাত কাজ করে ডেডলাইন বা সময়সীমা মানছে কিনা, তা এনসিটিবিকে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর পাঠ্যবই হলো সেই মেরুদণ্ড গড়ার প্রথম হাতিয়ার। বছরের প্রথম দিনেই দেশের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিটি শিক্ষার্থীর বেঞ্চে নতুন বইয়ের সুবাস পৌঁছাবে– আগাম এই প্রস্তুতি থেকে দেশবাসী ও শিক্ষার্থীরা এখন সেই প্রত্যাশাই করছে।

Facebook Comments Box
বিষয় :
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম