শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দারুল ফিকরিল ইসলামী তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় নাবালক ছাত্র অনৈতিক কর্মকাণ্ডের শিকার, মা-বাবাকে হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দারুল ফিকরিল ইসলামী তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় নাবালক ছাত্র অনৈতিক কর্মকাণ্ডের শিকার, মা-বাবাকে হত্যার হুমকি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যপাড়া এলাকার দারুল ফিকরিল ইসলামী তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় এক নাবালক ছাত্রকে জড়িয়ে ধরে তার স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, এর আগে কয়েকবার তার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করেছে ওই মাদ্রাসায়। কয়েকবার এ বিষয়ে বিচারিকভাবে সমাধানও হয়েছে। কিন্তু এখন এমন অনৈতিক কর্মকান্ড করবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রশাসনের চোখে-নাকে ধুলো দিয়ে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

ঘটনার পর মাদ্রাসার পরিচালক ও সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে বিচার প্রার্থনা করলে উল্টো মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নাবালক ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মধ্যপাড়া এলাকার দারুল ফিকরিল ইসলামী তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই মাদ্রাসার স্টোর রুম থেকে তার বেডিং আনতে গেলে ১ নং আসামী মোঃ মঈনুল (২৮) অসৎ উদ্দেশ্যে তাকে একা পেয়ে জড়িয়ে ধরে এবং তার স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করার অপচেষ্টা চালায়। এ সময় সে নাবালক ছাত্রের সাথে ধস্তাধস্তি করতে থাকে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, নাবালক ছাত্রটি ছোট ও অত্যন্ত অসহায় থাকায় তখন কোনো প্রতিবাদ করার সাহস ও শক্তি পায়নি। একপর্যায়ে ওই ছাত্রের সহপাঠী অন্য এক ছাত্র ঘটনাস্থল দিয়ে বাথরুমে যাতায়াতকালে মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে ১ নং আসামী তাকে ছেড়ে দেয় এবং এই ঘটনার বিষয়ে কাউকে না জানালে তাকে হত্যা করার হুমকি দেয়।

পরদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ভুক্তভোগীর মা ছেলেকে খাবার দিতে মাদ্রাসায় গেলে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। পরে তিনি মাদ্রাসার পরিচালক মুফতী তাফাজ্জুল হক এবং সহকারী পরিচালক মুফতি খোরশেদ আলমের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তারা উল্টো ভুক্তভোগীর মায়ের সাথে অশালীন আচরণ করেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চেয়ে ন্যায়বিচার না পেয়ে এবং তাদের হুমকির কারণে ভুক্তভোগীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলেটির মাদ্রাসায় যাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আসামিপক্ষের হুমকি-ধমকির কারণে তারা দিনাতিপাত করছেন।

এদিকে, অভিযোগে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, আসামিপক্ষ শুধু অনৈতিক কর্মকাণ্ডই চালাচ্ছে না, বরং নাবালক ছাত্রদের জিম্মি করে রেখে এসব কাজ করছে। তারা ছাত্রদের শাসিয়ে বলছে, ‘মা-বাবাকে বললে প্রাণে হত্যা করে ফেলব।’ এই হুমকির কারণে শিশুরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, প্রশাসনের চোখে-নাকে ধুলো দিয়ে মাদ্রাসার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নিকৃষ্ট কাজ চালিয়ে আসছে। মাদ্রাসা থেকে আবাসিক ব্যবস্থা বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন মহল সহ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। এখন নিত্য দিনের খবর হয়ে যাচ্ছে যে, এমন মাদ্রাসায় এমন শিক্ষক…,।

অভিযুক্তরা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও পরিচালক হয়েও যে জঘন্য কাজ করেছেন, তা কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। মাদ্রাসায় ছাত্রদের যেভাবে মারধর করা হয় তা কোন ভাবেই কাম্য নয়। অভিভাবকরা বিষয়টি জানালেও তারা বিষয়টি কর্ণপাত করেনা। কিন্তু প্রতিবারই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছে।

অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসন কেন এসব ঘটনা জানতে পারছে না? নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রাখা হচ্ছে? তারা দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এলাকায় চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে এবং অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠানো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।

নাবালকের বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করে অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মঈনুল, মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক মুফতী তাফাজ্জুল হক ও সহকারী পরিচালক মুফতি খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানাতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোঃ খায়রুল আলমকে একাধিকবার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম