নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার এবং অনুমোদিত ছুটির আগেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই রয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে টুটুল চক্রবর্তীর ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুই দিনের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর ছিল। তবে অনুমোদিত সময়ের আগেই, ১৩ নভেম্বর পূর্বাহ্নে কোনো প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করে তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
এদিন নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন তিনি। পরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়েন।
আগেও ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অভিযোগ
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এর আগেও একাধিকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন টুটুল চক্রবর্তী। এসব ঘটনার কারণে তিনি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসেন। তার এ কর্মকাণ্ডে জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি জবাব দেওয়ার সময় বাড়ানোর জন্যও আবেদন করেননি। পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ৭ মে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন।
পিএসসির পরামর্শে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত
তদন্ত প্রতিবেদনের পর গত ১৬ জুন টুটুল চক্রবর্তীকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এতে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু এবারও তিনি কোনো জবাব দেননি।
এরপর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে মত দেয়।
সবশেষে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে গত ৫ অক্টোবর টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়া এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
২০তম বিসিএসের কর্মকর্তা টুটুল চক্রবর্তী
টুটুল চক্রবর্তী ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও ঢাকা রেঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার এবং ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
২০২২ সালের ৩১ মে পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান টুটুল চক্রবর্তী। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। এর আগে তিনি ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি) ছাড়াও সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিপিএম পদক পেয়েছিলেন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।