শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি, বিপাকে পর্তুগাল সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট   |   রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি, বিপাকে পর্তুগাল সরকার

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীকে পর্তুগালের লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির প্রসিকিউটররা। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে পর্তুগাল সরকার আইন ও সংশ্লিষ্ট চুক্তি যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পর্তুগালের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, বিরোধী বামপন্থী দল লেফট ব্লকের কয়েকজন সদস্যের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তটি শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় পর্তুগালের কেন্দ্রীয় সরকার মার্কিন বাহিনীকে লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে কয়েকটি ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়। এই সিদ্ধান্তের পর বামপন্থী বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার।

যুদ্ধকালীন ব্যবহারে আলাদা অনুমতির বিধান

পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় শান্তিকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র পর্তুগালের লাজেস ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে। তবে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বা যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি ভিন্ন। সে ক্ষেত্রে ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য পর্তুগাল সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় সেই অনুমোদন দেওয়ার বৈধতা নিয়েই এখন তদন্ত চলছে।

পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো রাঙ্গেল এর আগে জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে লাজেস ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ওয়াশিংটনকে নিশ্চয়তা দিতে হয়েছিল, ঘাঁটিটি ব্যবহার করে পরিচালিত যেকোনো সামরিক অভিযান আত্মরক্ষামূলক বা প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির হবে, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হবে এবং কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সরকারের দাবি ছিল, অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও পর্তুগালের নিজস্ব আইনি বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগের পর তদন্ত

তবে সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় দেশটির বামপন্থী বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডে পর্তুগালের ভূখণ্ড ও সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

লেফট ব্লকের সদস্যদের অভিযোগের পরই প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। এতে মার্কিন বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও আইনি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হবে।

তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে সরকারের সিদ্ধান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লাজেস ঘাঁটি

আটলান্টিক মহাসাগরের আজোরেস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত লাজেস বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সামরিক যোগাযোগ ও বিমান চলাচলে ঘাঁটিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্তুগালের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ঘাঁটি। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক বিমানকে লাজেস ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

বামপন্থী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশটির ভূখণ্ড বিদেশি সামরিক অভিযানে ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়ে আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

এখন প্রসিকিউটরদের তদন্তে মূলত নির্ধারণ করা হবে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পর্তুগাল সরকার সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও আইনি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেছিল কি না। তদন্তের ফলাফল দেশটির সামরিক সহযোগিতা ও বিদেশি সামরিক কর্মকাণ্ডে পর্তুগালের ভূমিকা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম