শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

৮ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার হলেন বাংলাদেশি সালেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

৮ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার হলেন বাংলাদেশি সালেহ

যুক্তরাষ্ট্রে ৮ কোটি টাকার (৬৫ হাজার ডলার) প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার হলেন বাংলাদেশি আবু সালেহ। গত বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর টেনাসী অঙ্গরাজ্যের ক্রসভিলের পিভাইন রোডে অবস্থিত একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁর পার্কিং লট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ‘সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’—এর কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার এক সুপরিকল্পিত ফাঁদে ফেলে পূর্ব টেনেসীর এক বয়স্ক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫১ হাজার ডলারেরও বেশি হাতিয়ে নেয়। আরও ১৪ হাজার ডলার নেবার জন্য চাপ দিতে থাকে বৃদ্ধকে। অতিরিক্ত ১৪ হাজার ডলার নগদ সংগ্রহ করার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর ডলার ভর্তি একটি প্যাকেট সংগ্রহের জন্য ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁর গিয়েছিলেন। সেখানে ১৪ হাজার ডলারের প্যাকেটে ফাঁদ তৈরি করে বসেছিল গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। প্যাকেটটি গ্রহন করার সাথে সাথে তাকে আটক করা হয়।
আবু সালেহ (৪৭) বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্য একটি অঙ্গরাজ্য জর্জিয়ার আটলান্ট শহরে। । বর্তমানে টেনাসীতে তিনি ২.৬৫ মিলিয়ন ডলারের বন্ড বা জামানতের শর্তে কারাগারে রয়েছেন। এর আগে এক বয়স্ক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছিলেন যে, সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ফেডারেল এজেন্ট পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে প্রতারণার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ২৮ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত শুরু করে। ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করে।

 

তদন্তকারীদের মতে, ফোনকারী ভুক্তভোগীকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে তার সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরটি বেহাত হয়েছে। তার কম্পিউটার হ্যাক করা হয়েছে এবং তার ব্যাংকের একজন কর্মী গোপনে সাইবার অপরাধীদের সহায়তা করছে। প্রতারক ভুক্তভোগীকে একটি নতুন ল্যাপটপ কিনতে, ফোনকারীকে কম্পিউটারের ‘রিমোট অ্যাক্সেস’ (দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করার অনুমতি) দিতে এবং একটি নিরাপদ অ্যাকাউন্ট খোলা না হওয়া পর্যন্ত অর্থ নিরাপদে রাখার অজুহাতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা তুলে একজন ‘কুরিয়ার’—এর হাতে তুলে দিতে রাজি করায়।

 

পুরো বিষয়টি যে একটি প্রতারণা তা বোঝার আগেই ভুক্তভোগী দুই দফায় ৫১ হাজার ডলার সালেহ’র হাতে তুলে দিয়েছিলেন। প্রথম দফায় ২২ সেপ্টেম্বর টেনেসীর ক্লিভল্যান্ডে অবস্থিত একটি ওয়ালমার্ট স্টোরে এক কুরিয়ারের হাতে ২৪,০০০ ডলার তুলে দেন। দ্বিতীয় দফায় ২৩ সেপ্টেম্বর ক্রসভিলের একটি মোটেলে ২৭,০০০ ডলার হস্তান্তর করেন। প্রতারকর যখন অতিরিক্ত ১৪,০০০ ডলার দাবি করে, তখন শেরিফের তদন্তকারীরা বিষয়টি আমলে নেন। ভুক্তভোগী এবং টেনেসী ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাথে যৌথভাবে কাজ করে। ডেপুটিরা ‘পিভাইন রোড’—এর ম্যাকডোনাল্ডস—এ একটি নকল প্যাকেজ নিয়ে সাক্ষাতের আয়োজন করেন। সালেহ প্যাকেজটি সংগ্রহ করার সাথে সাথেই ডেপুটিরা তাকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নথিতে সালেহকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে আটলান্টা, জর্জিয়া থেকে জারি করা একটি বকেয়া পরোয়ানার উল্লেখ রয়েছে। যা একইভাবে নগদ অর্থ সংগ্রহের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারীরা ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আগামী সোমবার ৫ অক্টোবর টেনাসির কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি জেনারেল সেশনস কোর্টে তাকে তোলা হবে। দোষী সাব্যস্থ হলে তিনি জেলজরিমানা ও ডিপোর্টের সন্মুখিন হতে পারেন।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম