শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ইরানের পরমাণু স্থাপনাকে ‘মাদক কারখানা’ বললেন ট্রাম্প, কেন?

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইরানের পরমাণু স্থাপনাকে ‘মাদক কারখানা’ বললেন ট্রাম্প, কেন?

ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ বা মাদক কারখানা বলে মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে ওকলাহোমায় এক সমাবেশে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার বর্ণনা দেওয়ার সময় হঠাৎ ফোরদো স্থাপনাকে ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। শুধু একবার নয়, বক্তব্যের পরবর্তী অংশেও তিনি ‘মাদক ও পারমাণবিক কারখানা’ বলে একই দাবি কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করেন।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও।

কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের নিউক্লিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের সহপরিচালক জেমস অ্যাক্টন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক ই-মেইলে বলেন, ‘এটা আমার জন্যও নতুন।’

অ্যাক্টনের ভাষ্য, তার জানা মতে ইরানের ফোরদো স্থাপনা কখনও মাদক উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয়নি। সেখানে মাদক উৎপাদন করা হতো—এমন বিশ্বাসযোগ্য বা অবিশ্বাস্য কোনো অভিযোগের কথাও তিনি আগে শোনেননি।

কী বলেছিলেন ট্রাম্প?

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে। গত বছরের জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে পরিচালিত অভিযানে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ছিল ফোরদোও।

ওকলাহোমার সমাবেশে ওই অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, গভীর রাতে চাঁদের আলো না থাকার সুযোগে মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

ফোরদো স্থাপনার বায়ু চলাচলের পথ দিয়ে বোমা ঢোকানোর প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে তিনি সেটিকে ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ বলে উল্লেখ করেন। এরপর বক্তব্য সংশোধন না করে আরও কয়েকবার ‘মাদক ও পারমাণবিক কারখানা’ বলে একই ধারণা তুলে ধরেন।

তবে তিনি কী ধরনের মাদক উৎপাদনের কথা বলছেন কিংবা এর পক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।

কেন এমন বললেন ট্রাম্প?

ট্রাম্প কেন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে ‘মাদক কারখানা’ বললেন, তার কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।

তবে সিএনএনের বিশ্লেষণে একটি সম্ভাব্য কারণ উঠে এসেছে। ইরান প্রসঙ্গে কথা বলার ঠিক আগে ট্রাম্প ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবৈধ মাদক পাচার ঠেকাতে তার প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।

এরপরই তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গে যান। ফলে আগের প্রসঙ্গে বারবার ব্যবহৃত ‘ড্রাগ’ শব্দটি ভুলক্রমে পরবর্তী বক্তব্যে চলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এটি নিছক কথার ভুল ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়নি।

ভুল সংশোধন না করে একই দাবি পুনরাবৃত্তি

সিএনএনের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্যের আরেকটি দিকও তুলে ধরা হয়েছে। অতীতে প্রকাশ্য বক্তব্যে কোনো শব্দ বা তথ্য ভুল বলার পর অনেক সময় তা সরাসরি সংশোধন না করে বরং নিজের বক্তব্যকে আরও জোর দিয়ে উপস্থাপন করেছেন ট্রাম্প—এমন উদাহরণ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফোরদোকে ‘মাদক কারখানা’ বলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে বিশ্লেষণ করেছে সিএনএন। ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ বলার পর বক্তব্য সংশোধনের পরিবর্তে ট্রাম্প পরবর্তী কয়েকটি বাক্যে একই ধারণা পুনরাবৃত্তি করেন।

তবে এটি সিএনএনের বিশ্লেষণ। ট্রাম্পের বক্তব্যের এমন ব্যাখ্যা হোয়াইট হাউস প্রকাশ্যে দেয়নি।

পারমাণবিক স্থাপনায় ‘ওষুধ’ তৈরির বিষয়টি কি যুক্ত?

ট্রাম্পের মন্তব্যের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে জেমস অ্যাক্টন আরেকটি বিষয় সামনে আনেন। তার মতে, ইরান অতীতে কখনও কখনও পারমাণবিক চুল্লিতে ‘রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল’ বা তেজস্ক্রিয় ওষুধ তৈরির সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছে। এসব পদার্থ বিভিন্ন রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

তবে ফোরদোর ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যাও প্রযোজ্য নয় বলে মনে করেন অ্যাক্টন। কারণ ফোরদো মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র; সেখানে কোনো পারমাণবিক চুল্লি নেই।

অর্থাৎ, ইরানে পারমাণবিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনের বিষয়টি থাকলেও ফোরদোকে ‘মাদক কারখানা’ হিসেবে বর্ণনা করার সঙ্গে সেটিকে মেলানো যায় না।

হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা মেলেনি

ট্রাম্পের মন্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা শুধু সাংবাদিকদের ট্রাম্পের নিজের মন্তব্যের দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ফলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মাদক উৎপাদনের কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ট্রাম্পের কাছে রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞ জেমস অ্যাক্টনের বক্তব্য অনুযায়ী, ফোরদোতে মাদক উৎপাদনের কোনো বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কথা তার জানা নেই। অন্যদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের ঠিক আগের অংশে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবৈধ মাদক পাচারের প্রসঙ্গ থাকায়, ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ কথাটি সেখান থেকে ভুলক্রমে চলে আসার সম্ভাবনাকে একটি সরল ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ট্রাম্প বা তার প্রশাসন এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

সূত্র: সিএনএন

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম