ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
এআই দিয়ে তারকাদের চেহারা ব্যবহার করে আপত্তিকর ডিপফেক ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ভিউ ও অর্থ উপার্জনের জন্য কাউকে অপমান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কবে থেকে অন্যের অপমান-অসম্মান মানুষের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন লেখেন, ‘এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়, বরং অপরাধ।’
তিনি বলেন, একই ধরনের কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন বিষয়টি আর শুধু একজনের অপরাধে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এটি বড় একটি সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। তখন প্রশ্ন জাগে, সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কোন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি?
মেহজাবীন লেখেন, ‘এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত! কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, অনেকের জন্য কনটেন্ট তৈরি এখন জীবিকা নির্বাহের একটি উপায়। মানুষের এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে চান না তিনি। তবে তাঁর প্রশ্ন, ‘কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?’
মেহজাবীনের মতে, জনপ্রিয়তা কিংবা অর্থ আয়ের আশায় অন্যকে অপদস্থ করার প্রবণতা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কারও পরিচয় ব্যবহার করে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, এ সমস্যা এখন শুধু নারী কিংবা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভিউ, এনগেজমেন্ট ও ট্রেন্ডিংয়ের প্রতিযোগিতায় যে কেউ ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির অংশ হতে পারেন, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারেন।
মেহজাবীন লেখেন, তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় শুধু সেই ব্যক্তি নন, যিনি এমন কনটেন্ট তৈরি করছেন; বরং সেই অসংখ্য মানুষ, যারা স্বেচ্ছায় তা শেয়ার করছেন, আলোচনা করছেন এবং আরও হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।
পোস্টের শেষে কনটেন্ট শেয়ারকারীদের নিজেদের বিবেক নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।’
উল্লেখ্য, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখানে প্রকাশিত মেহজাবীনের একটি ডিপফেক ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। তবে এরপরও এ নিয়ে বিতর্ক থামেনি।