ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে ১৫টি শিশু রয়েছে। নৌকাটিতে ৩০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
রোববার আইওএমের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটি জানায়, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে জিবুতির পূর্ব উপকূলে গুহেরে এলাকার কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। শুক্রবার ভোর হওয়ার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। দুর্ঘটনার পর ৮০ জনের বেশি যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। তাঁদের সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক বলে জানিয়েছে আইওএম। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে জিবুতির কর্তৃপক্ষের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোয়েসাক বলেন, সংস্থাটির কর্মীরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা দিচ্ছেন। এ ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।
আলেক্সান্দ্রে কোয়েসাক আরও জানান, নিহতের যে সংখ্যা জানানো হয়েছে, তা মূলত জিবুতির কর্তৃপক্ষের দাফন করা ব্যক্তিদের হিসাব। অভিবাসীদের কেউ কেউ নিজেরাই মরদেহ দাফন করেছেন। কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলোর পরিচয় ও সংখ্যা যাচাই করার পর সেগুলো সরকারি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
আইওএমের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক সুযোগ ও নিরাপদ জীবনের আশায় আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের বহু মানুষ জিবুতি থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ যাত্রায় তাঁদের পাড়ি দিতে হয় বাব আল-মান্দেব প্রণালি। সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যে এ প্রণালির দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
তবে অভিবাসীদের জন্য এ পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরু হলেও অভিবাসীদের যাত্রা থেমে নেই।
আইওএম জানিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষের আগমন নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি। গত বছর এ পথ ধরে ইয়েমেনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে অথবা তাঁরা নিখোঁজ রয়েছেন।
জিবুতির উপকূলে সর্বশেষ এ নৌকাডুবির ঘটনা আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যাওয়ার পথে অভিবাসীদের প্রাণহানির ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে।
সূত্র: আলজাজিরা