ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বন্দুক হামলায় অন্তত ১১ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। হামলার পরপরই এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ইজমিরের কাছের মানিসা প্রদেশের তুরগুতলু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে আঞ্চলিক গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, হামলায় ১১ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। হামলায় জড়িত ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে দ্রুত আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হামলার কারণ অনুসন্ধানে ওই কিশোরের বাবা-মা ও দাদাকেও আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হঠাৎ গোলাগুলিতে আতঙ্ক
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও স্কুলের সামনে ছুটে যান।
স্থানীয় আইএইচএ বার্তা সংস্থাকে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে তিনি ব্যালকনিতে ছুটে যান। তখন ওই কিশোরকে গালিগালাজ করতে করতে একটি গলি দিয়ে হাঁটতে এবং চিৎকার করতে দেখা যায়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কিশোরটির হাতে থাকা বন্দুক দিয়ে সে মানুষের দিকে গুলি চালায়। অস্ত্রটি রাইফেল হওয়ায় কেউ তাকে বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।
সিসিটিভিতে অস্ত্র হাতে যুবক
ডিএইচএ সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে কালো জিন্স, জ্যাকেট ও সবুজ রঙের পোশাক পরা এক যুবককে লম্বা ব্যারেলের একটি অস্ত্র হাতে হাঁটতে দেখা গেছে। এনটিভি নিউজ চ্যানেল জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ছিল একটি শটগান।
পরে বিদ্যালয়ের বাইরের ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ এক যুবককে মাটিতে ফেলে কাবু করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় ঘটনাস্থলের পাশে এক নারীকে চিৎকার করতে দেখা যায়। উৎসুক জনতাও স্কুলের সীমানাপ্রাচীরের পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
অস্ত্রের উৎস ও বুলিংয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে
বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের হাতে অস্ত্রটি পৌঁছাল, সেটি কার নজরদারিতে ছিল এবং হামলার আগে স্কুলে কোনো বুলিং বা উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর ওই বিদ্যালয়ের দিনের বাকি সব ক্লাস স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সূত্র: এনডিটিভি