শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির অমর্যাদার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির অমর্যাদার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন

ঢাকা সেনানিবাসের `শিখা অনির্বাণ’ -এ চিরজ্বলন্ত শিখাটি নিভিয়ে ফেলার প্রতিবাদ এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রজ্বলিত রাখার দাবি ও পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাণিক পশারির দাফন নিয়ে সৃষ্ট লজ্জাস্কর ও ঘৃণ্য পরিস্থিতির প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন পার্টি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেনোসাইড’৭১ ফাউন্ডেশন আয়োজত এ সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে জেনোসাইড’৭১ ফাউন্ডেশন’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ কর উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শিখা অনির্বাণ' এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের স্মারক। কোটি বাংলাদেশির কাছে এটি কেবল সামরিক আত্মত্যাগের প্রতীকই নয়, বরং স্বাধীনতা, মর্যাদা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের জন্য জাতির সংগ্রামেরও এক অবিস্মরণীয় প্রতীক। চিরজ্বলন্ত শিখা’ বিশ্বজুড়ে এমন একটি প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত, যা একটি জাতির অশেষ কৃতজ্ঞতাবোধকে তুলে ধরে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের শিখা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রজ্বলিত রাখা হয়, কারণ এগুলো জাতির জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের স্মরণে রাখা এক চিরস্থায়ী অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।’ লিখিত বক্তব্যে গভীর উদ্বেগের সাথে বলা হয়, `আমরা অবগত হয়েছি যে,  ঐ চিরজ্বলন্ত শিখাটির প্রজ্বলন বন্ধ রাখা হয়েছে। শিখা অনির্বাণ’-এর প্রতীকী গুরুত্ব বিবেচনায় এর নিরবচ্ছিন্ন প্রজ্বলন বজায় রাখা অত্যন্ত যৌক্তিক। একটি আনুষ্ঠানিক চিরজ্বলন্ত শিখা বজায় রাখার ব্যয় এর শিক্ষামূলক, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় তাৎপর্যের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী, সামরিক সদস্য, প্রবীণ সেনাসদস্য, কূটনীতিক, গবেষক এবং সাধারণ নাগরিক বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য প্রদত্ত আত্মত্যাগের কথা জানতে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভগুলো পরিদর্শন করেন। নিরন্তর প্রজ্বলিত এই শিখাটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জীবন্ত শিক্ষা হিসেবে কাজ করে|

এতদসত্বেও জ্বালানি সাশ্রয়ের সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মারক  `শিখা অনির্বাণ’ আপাতত সার্বক্ষণিকভাবে জ্বালিয়ে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে, সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় একটি জঙ্গিগোষ্ঠি এর আগে প্রকাশ্য দিবালোকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে। সেই সেনাবাহিনী জ্বালানী সাশ্রয়ের অজুহাতে শিখা অনির্বাণ নিভিয়ে ফেলার অজুহাত দাঁড় করিয়ে পুরো জাতির সাথে তামশা করেছে। এর বিপরীতে জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশন জানায় যে, শিখা অনির্বাণ প্রজ্জ্বলিতভাবে জ্বালিয়ে রাখার স্বার্থে প্রবাস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করা হবে, তবুও যেন তা জ্বালিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

এরপরই বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির লাশের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনে ক্ষমতাসীনদের মদদে প্রচন্ডভাবে বাধা প্রদানের তীব্র সমালোচনা করেন `জেনোসাইড’৭১ ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মঞ্জুর চৌধুরী। এহেন আচরণের নিন্দা এবং ইস্যুটিকে একাত্তরের বর্বরতা-হিংস্রতার পরিপূরক হিসেবে অভিহিত করে প্রবাসের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিতদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দেন-দরবারের ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেনোসাইড’৭১ ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মঞ্জুর চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মকবুল হোসেন ও হাকিকুল ইসলাম খোকন।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম