ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে সতর্ক করেছেন সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্দ্রু হুদিস্তেনু। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জাহাজগুলো অনুমতি ছাড়াই প্রণালিটি অতিক্রম করছিল।
আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এ ধরনের চলাচল অব্যাহত থাকলে হামলার পরিধি বাড়ানো হতে পারে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর আওতায় আসতে পারে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্দ্রু হুদিস্তেনুর মতে, ইরানের এই বক্তব্যে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি মার্কিন কোম্পানিগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা কৌশলগত বার্তা দিচ্ছে। দুই পক্ষই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিপক্ষকে সতর্ক করার চেষ্টা করছে। তবে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
হুদিস্তেনু বলেন, ‘এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিপদের প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।’ তাঁর মতে, দুই পক্ষের বক্তব্য ও হুমকির ভাষা উত্তেজনা প্রশমনে কোনো সহায়তা করছে না।
আলোচনা এগোচ্ছে না, বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নিরসনের প্রচেষ্টাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন হুদিস্তেনু। তাঁর ভাষ্য, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এতটাই গভীর যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, আলোচনাগুলো অত্যন্ত জটিল এবং এগিয়ে নেওয়া কঠিন। কারণ, মৌলিক বিষয়গুলোতেও দুই পক্ষের মধ্যে কার্যত কোনো ঐকমত্য নেই।
এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান হামলার পরিধি বাড়ালে এবং যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা পদক্ষেপ নিলে সামুদ্রিক পরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমপরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। আন্তর্জাতিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ক্ষেত্রেও এই প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম।
এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যেতে পারে। এতে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি এবং দুই পক্ষের অনড় অবস্থানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে এই উত্তেজনা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা