Advertise with us

নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভে অভিনেতা-রাজনীতিকসহ শতাধিক আটক

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভে অভিনেতা-রাজনীতিকসহ শতাধিক আটক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার আগে নিউইয়র্কে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভ থেকে অভিনেতা, রাজনৈতিককর্মী, সংগঠক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ শতাধিক মানুষকে আটক করেছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরের বাইরে ও নিউইয়র্কের মিডটাউন ম্যানহাটন এলাকায় পৃথক বিক্ষোভে অংশ নেন তারা।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) আলজাজিরাকে জানিয়েছে, বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে ১০৩ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচনী প্রার্থী ছিলেন।

তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে অন্তত ৩০ জনকে আটকের কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছিলেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার, ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে।

অন্যদিকে, পুলিশের তথ্যের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মিডটাউন ম্যানহাটনে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ থেকে প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‘গাজায় যা করা হচ্ছে, তা আমাদের নামেই’

রয়টার্সকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বার্নার্ড কলেজের অধ্যাপক মানিজেহ মোরাদিয়ান বলেন, গাজায় যা করা হচ্ছে, তাতে একটি পুরো সমাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘এটা আমাদের নামে এবং আমাদের করের অর্থে করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব।’

নেতানিয়াহুর জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ডের সাফাই দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।

ইহুদি অধিকারকর্মী সংগঠন জুয়িশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) আয়োজিত বিক্ষোভে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ মানুষ অংশ নেন বলে আলজাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকের পরনে ছিল একই ধরনের সাদা টি-শার্ট। তাতে লেখা ছিল—‘বোমার বদলে মানুষকে অর্থ দাও’, ‘যুদ্ধ নয়’ এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’।

বিক্ষোভকারীরা ফার্স্ট অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশে বসে পড়লে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ মাইকিং করে তাদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কেউ কেউ ফুটপাতে সরে গেলেও অনেকে সড়কে বসে নেতানিয়াহুবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের একে একে সরিয়ে নেয় এবং হাত পেছনে জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে বাসে তোলে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদ জানাতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন।

ভাষণ শুরুর পরই খালি হয়ে যায় অধিবেশন কক্ষ

এরই মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। তিনি পোডিয়ামে দাঁড়ানোর পরপরই অধিবেশন কক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা দল বেঁধে বের হয়ে যান। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার আগেই কক্ষটি খালি হতে শুরু করে।

তবে ইসরায়েলের সমর্থক প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের একটি অংশ কক্ষে ছিলেন। তাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতা বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে তা মোকাবিলার চেষ্টাও করেন তিনি। একই সময়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে সামনে একটি নির্বাচন মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

মামদানিকে তীব্র আক্রমণ নেতানিয়াহুর

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির তীব্র সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। এর আগে বিভিন্ন সময়ে মামদানি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এর জবাবে নেতানিয়াহু মামদানিকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দেন এবং ইসরায়েল ও দেশটির সামরিক বাহিনী নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘সত্যকে বিকৃত করার জন্য আপনাকে ধিক্কার। আক্রান্ত ব্যক্তি ও আক্রমণকারীকে উল্টোভাবে উপস্থাপন করায় আপনাকে ধিক্কার। সত্যের মুখে থুতু দেওয়ায় আপনাকে ধিক্কার জানাই।’

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ মামদানির

নেতানিয়াহুর ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগের জবাবে পাল্টা অভিযোগ করেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যার অভিযোগ আড়াল করতেই নেতানিয়াহু ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ করছেন।

এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে নিজের যুদ্ধাপরাধ আড়াল করতেই নেতানিয়াহু ভিত্তিহীন মিথ্যা ছড়াচ্ছেন। কোনো মিথ্যাচার দিয়েই যুদ্ধাপরাধের দায় মুছে ফেলা যাবে না।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম