ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হলেও দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি সরে নাও যেতে পারে—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার আয়ারল্যান্ড সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষে ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোপুরি প্রত্যাহারের বদলে দেশটিতে কিছুটা উপস্থিতি বজায় রেখে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে ওয়াশিংটন। এ প্রসঙ্গে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একটি চুক্তির উদাহরণ টানেন ট্রাম্প।
ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল মজুতের এক-পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের দাবি, দেশটি থেকে পাওয়া রাজস্ব দিয়ে এরই মধ্যে যুদ্ধের ব্যয় বহুগুণে উঠে এসেছে।
আয়ারল্যান্ড সফরের সময় বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি গলফও উপভোগ করেন ট্রাম্প। আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আবারও ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান হলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ‘খুব দ্রুত’ কমে যাবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও। সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ফের বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তিনি শুধু ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান; ‘ভালো নয়’—এমন কোনো চুক্তিতে যেতে রাজি নন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান বারবার শান্তি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে তেহরান এর আগে এমন দাবি নাকচ করেছে।
যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে চলে আসবে। তবে ভেনেজুয়েলার মতো সেখানে অবস্থান বজায় রেখে তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে চলে আসব। তবে ভেনেজুয়েলার মতো সেখানে অবস্থান করে তেল নিজেদের দখলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলে বিষয়টি আলাদা।’