ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী শনিবার নিউইয়র্কের আইকনিক ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে (এমএসজি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে অনুষ্ঠানটির বিরোধিতা করছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানীসহ বেশ কয়েকজন। মামদানী জানিয়েছেন, তিনি এই আয়োজনকে সমর্থন করেন না। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার ক্ষেত্রে শহর কর্তৃপক্ষের কোনো আইনগত এখতিয়ার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
মামদানী বলেন, তাঁর পরিবার তাঁকে ভারতের একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের ধারণার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এমন একটি আন্দোলনের উত্থান দেখা যাচ্ছে, যা বর্জন ও একচেটিয়া ভাবধারার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে—এটি উদ্বেগজনক।
এদিকে আরএসএসের অনুষ্ঠানটির বিরোধিতাকারীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী ম্যারি মিলবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মামদানী ও তাঁর সমর্থকদের ‘সমাজতান্ত্রিক’ বলে মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির বিরোধিতা থেকেই ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করছেন।
মিলবেন আরও বলেন, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন ‘সমাজতান্ত্রিক বাগাড়ম্বরের জবাব দেয় না’, বরং পুঁজিবাদের জবাব দেয়। তাই অনুষ্ঠানটি যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৪১ বছর বয়সী মিলবেন ২০২৩ সালে নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রেগান বিল্ডিংয়ে তাঁর ভাষণের আগে ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেছিলেন। ভারতে ‘জন গণ মন’ ও ‘ওম জয় জগদীশ হরে’ গাওয়ার জন্যও তিনি পরিচিত।
মিলবেন মামদানী ও তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে নিজের সমাবেশ আয়োজনের পরামর্শও দেন। একই সঙ্গে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে অর্থপূর্ণ আলোচনা আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজকদের ওয়েবসাইটে অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সার্বজনীন একত্ব উদযাপন’। আয়োজক সংগঠন আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ জানিয়েছে, কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান সংগঠনের সমর্থনে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, যৌথ ঐতিহ্য ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।
তবে ভাগবতের উপস্থিতি এবং আরএসএসের ইতিহাসের কারণে নিউইয়র্কের বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংগঠন অনুষ্ঠানটির সমালোচনা করেছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রাজনীতি, হিন্দুত্ববাদ ও ধর্মীয় বহুত্ববাদ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।