শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

এসডিএফ বিলুপ্ত, সিরিয়ার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

এসডিএফ বিলুপ্ত, সিরিয়ার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত

সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তির আওতায় সিরীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হয়েছে বাহিনীটি।

মঙ্গলবার দামেস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে দেওয়া বক্তব্যে এসডিএফের প্রধান মাজলুম আবদি বলেন, এখন থেকে স্বাধীন কোনো বাহিনী হিসেবে এসডিএফের কার্যক্রম থাকবে না। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধের অধ্যায় পেছনে ফেলে সিরিয়া এখন শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের পথে এগোতে চায়।

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় একসময় বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছিল এসডিএফের হাতে। তবে গত জানুয়ারিতে সরকারি বাহিনীর অভিযানে তারা বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে দামেস্ক সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বাহিনীটিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। চুক্তিতে কুর্দিদের সাংস্কৃতিক, নাগরিক ও শিক্ষার অধিকার স্বীকৃতির কথাও রয়েছে।

সাত মাসের টানাপোড়েনের পর একীভূতকরণ

আইএসবিরোধী লড়াইয়ে এসডিএফ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সহযোগী। কিন্তু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে দামেস্কের সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ হয়। এতে এসডিএফের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়।

এসডিএফকে সিরীয় সেনাবাহিনীতে একীভূত করার প্রক্রিয়া সাত মাসের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। বিশেষ করে বাহিনীর ভারী অস্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং ওয়াইপিজির নারী যোদ্ধাদের কীভাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে—তা নিয়ে মতপার্থক্য ছিল।

ওয়াইপিজি তাদের সদস্যদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পেশাদার সেনাসদস্য হিসেবে রাখার দাবি জানিয়েছিল। অন্যদিকে দামেস্ক তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়।

কুর্দিদের অধিকার কতটা নিশ্চিত হবে?

আসাদ পরিবারের প্রায় পাঁচ দশকের শাসনামলে সিরিয়ার কুর্দিরা নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এমনকি তাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন নাগরিকত্ব থেকেও বঞ্চিত ছিল। নতুন চুক্তিতে কুর্দিদের সাংস্কৃতিক, নাগরিক ও শিক্ষার অধিকার স্বীকৃতি পাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাজলুম আবদি জানান, কুর্দি ভাষায় শিক্ষার অধিকারও সরকার স্বীকার করেছে। চলতি বছর থেকেই কুর্দি ভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিশ্রুত অধিকার বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দিদের প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন সিরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন অধ্যাপক ও লেখক সালেহ মুবারক।

ঐক্যবদ্ধ সিরিয়ার পথে বড় পদক্ষেপ?

সালেহ মুবারকের মতে, এসডিএফ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত সিরিয়াকে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পথকে শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপরও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

তবে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় চুক্তিটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। এসডিএফের সদস্যদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা, অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাঠামো—এসব বিষয় সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্রের’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এক দিন পর এসডিএফ বিলুপ্তির ঘোষণা আসে। ফলে ওয়াশিংটন ও দামেস্কের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও ঘটনাটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সিরিয়া একটি অন্ধকার অধ্যায় পেছনে ফেলে এখন উন্নয়ন, পুনর্গঠন ও নতুন করে দেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম