খেলাধুলা ডেস্ক | শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মিরপুরে পাকিস্তান বোলারদের শাসন করে প্রথম দিনটি রাঙিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। টস হেরে শুরুতেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও অধিনায়ক শান্তর সেঞ্চুরি এবং মুমিনুলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের মজবুত ভিত পেয়েছে লাল-সবুজের দল। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮৪ ওভারে ৪ উইকেটে ৩০১ রান।
দলীয় ১৮ ও ৩৬ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর উইকেটে এসে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মুমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ১৭০ রানের এক জুটি। শান্ত ১২৯ বলে ক্যারিয়ারের ৯ম সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ১০১ রানে বিদায় নেন। অন্যদিকে, মুমিনুল হক ৯ রানের আক্ষেপ নিয়ে ৯১ রানে সাজঘরে ফেরেন। ২০০ বল খেলে সাজানো তার এই ইনিংসটি বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের মূল ভিত ছিল।
দুই থিতু হওয়া ব্যাটার ফিরে গেলেও দিনের শেষ সেশনে বাংলাদেশকে আর বিপদে পড়তে দেননি অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস। ইনিংসের ৮৪তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে থার্ড ম্যান দিয়ে চার মেরে দলীয় স্কোর তিন শ পার করেন মুশফিক। আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের ৫ ওভার বাকি থাকতেই খেলা শেষ ঘোষণা করার সময় মুশফিক ৪৮ ও লিটন ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের হয়ে একটি করে উইকেট নিয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাস ও নোমান আলী।
অধিনায়ক শান্তর দেওয়া ‘৪০০ রানের’ লক্ষ্য ছোঁয়ার খুব কাছে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। হাতে এখনও ৬ উইকেট থাকায় কাল সকালে সেই মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামবে স্বাগতিকরা। মুশফিকুর রহিম এবং লিটনের ব্যাটের দিকেই এখন তাকিয়ে থাকবে মিরপুরের গ্যালারি।
নার্ভাস নাইনটিজের শিকার মুমিনুল: শান্তর পর প্রথম দিনেই দ্বিতীয় সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ছিল মিরপুর। কিন্তু সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন পাকিস্তানের স্পিনার নোমান আলী। দুর্দান্ত ব্যাটিং করতে থাকা মুমিনুল হক ব্যক্তিগত ৯১ রানে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে মাঠ ছেড়েছেন। এতে ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হলো তাকে। আউট হওয়ার আগে ২০০ বল মোকাবেলা করেন তিনি। ১০টি চারের মারে সাজানো ছিল তার এই ইনিংস।
মুমিনুলের বিদায়ের পর বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৭৭ রান। এখন উইকেটে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী হয়েছেন লিটন কুমার দাস।
আড়াইশ ছাড়াল বাংলাদেশ, সেঞ্চুরির পথে মুমিনুল: প্রথম দিনের খেলা এখন শেষ সেশনে গড়িয়েছে। চা বিরতির পর দেখেশুনে ব্যাটিং করছেন মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। তাদের দুজনের জুটিতে আড়াইশ ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পথে মুমিনুল। বাঁহাতি ব্যাটার অপরাজিত ৮৮ রানে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। মুশফিক ব্যাটিং করছেন ২২ রান নিয়ে। বাংলাদেশ ৭০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২৬১ রানে খেলছে।
এর আগে চা বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২০১ রান। বিরতি থেকে ফিরে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মুমিনুল হক। পাকিস্তানের বোলারদের ক্লান্ত করে মুমিনুল তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের আরও একটি ফিফটি।
শান্ত-মুমিনুলের বড় জুটি: দ্রুত ২ উইকেট হারানোর পর উইকেটে এসে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অভিজ্ঞ মুমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন ১৭০ রানের এক জুটি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থেকে ফিরেই ৭১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন শান্ত। এরপর আরও খুনে মেজাজে ব্যাটিং করে ১২৯ বলে পূর্ণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ৯ম সেঞ্চুরি। তার ১০১ রানের ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ২টি বিশাল ছক্কার মার। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, সেঞ্চুরি উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই আব্বাসের বলে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক।
শুরুতে জোড়া ধাক্কা ও জয়ের আক্ষেপ: টস জিতে আগে বোলিং করার পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদের সিদ্ধান্তকে সার্থক করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। ব্যক্তিগত ৪ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও ‘জীবন’ পেয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ব্যক্তিগত ৮ রানে শাহীনের বলে রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জয়। দলীয় ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৩৬ রানের মাথায় হাসান আলীর শিকার হন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম (১৩)।
বাবরবিহীন পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তিন পেসার: মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল পাকিস্তান। হাঁটুর চোটের কারণে ছিটকে গেছেন তাদের সেরা ব্যাটার বাবর আজম। তার পরিবর্তে আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজলের অভিষেক হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ৩ জন বিশেষজ্ঞ পেসার তাসকিন, এবাদত ও নাহিদ রানাকে নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে।