লাইফস্টাইল ডেস্ক | শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলও অনেক পরিবারের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শহুরে জীবনে, যেমন ঢাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার বেশি হওয়ায় মাস শেষে বিলও তুলনামূলক বেশি আসে। তবে কিছু সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে সহজেই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের খরচ কমানো সম্ভব।
নিচে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল কমানোর ৭টি বাস্তব উপায় দেওয়া হলো-
১. অপ্রয়োজনীয় লাইট ও ফ্যান বন্ধ রাখুন
অনেক সময় আমরা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট বা ফ্যান বন্ধ করতে ভুলে যাই। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা অপ্রয়োজনীয় লাইট বা ফ্যান চালু থাকলে মাস শেষে বিল অনেক বেড়ে যায়। তাই ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সুইচ বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
২. এলইডি বাল্ব ব্যবহার করুন
পুরনো ধরনের বাল্ব বা টিউবলাইটের তুলনায় এলইডি বাল্ব অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে। অথচ একই আলো পাওয়া যায়। প্রযুক্তিবিদরা বলেন, এলইডি বাল্বে বিদ্যুৎ খরচ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। তাই ঘরের সব বাল্ব ধীরে ধীরে এলইডিতে পরিবর্তন করা ভালো।
৩. ফ্রিজ সঠিকভাবে ব্যবহার করুন
ফ্রিজ বারবার খোলা বা দীর্ঘ সময় খোলা রাখলে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। এছাড়া ফ্রিজের ভেতর খুব বেশি গরম খাবার রাখলে কম্প্রেসর বেশি কাজ করে। তাই খাবার ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখা এবং দরজা দ্রুত বন্ধ করার অভ্যাস করা উচিত।
৪. এসি ব্যবহারে সচেতনতা
গরমের সময় অনেকে নিয়মিত এসি ব্যবহার করেন। এসি ২৪–২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালালে বিদ্যুৎ কম খরচ হয়। এছাড়া নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
৫. রান্নায় গ্যাস অপচয় কমান
গ্যাসে রান্না করার সময় হাঁড়ি বা পাত্রের আকার অনুযায়ী চুলার আগুন ব্যবহার করা উচিত। অনেক সময় দেখা যায়, ছোট পাত্রে বড় আগুনে রান্না করা হয়। এতে গ্যাস অপচয় হয় বেশি। রান্না শেষ হলে চুলা ঠিকমতো বন্ধ আছে কিনা সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
৬. প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন
ডাল, মাংস বা শক্ত খাবার রান্নার ক্ষেত্রে প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে সময় কম লাগে, গ্যাস খরচও কম হয়। ফলে একই সঙ্গে সময় ও খরচ দুটিই বাঁচে।
৭. বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি স্ট্যান্ডবাই রাখবেন না
টিভি, চার্জার, মাইক্রোওভেন বা অন্যান্য যন্ত্র অনেক সময় ব্যবহার না করলেও প্লাগে লাগানো থাকে। এগুলো স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় থেকেও বিদ্যুৎ খরচ করে। তাই ব্যবহার শেষে প্লাগ খুলে রাখা ভালো।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয় শুধু ব্যক্তিগত খরচ কমায় না, বরং জাতীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। ছোট ছোট সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে পরিবারের মাসিক বিল অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সচেতন হওয়া জরুরি—যা সাশ্রয়ী জীবনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।