খেলাধুলা ডেস্ক | রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কয়েক দশকের চড়াই-উতরাই আর নানা বাধা পেরিয়ে অবশেষে মাহেন্দ্রক্ষণের দেখা পেল জম্মু ও কাশ্মীর। ৯১ বছরের রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলের দলটি। কর্ণাটককে হারিয়ে ইতিহাস গড়া এই সাফল্যের প্রধান রূপকার ডানহাতি পেসার আকিব নবি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আগুনঝরা বোলিংয়ে একাই নিয়েছেন ৬০ উইকেট।
পুরো আসরজুড়েই দাপট দেখিয়েছেন আকিব। ফাইনালেও ধরে রেখেছিলেন সেই ধারাবাহিকতা। ৫৪ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে কর্ণাটকের ব্যাটিং লাইনআপ একাই ধসিয়ে দেন তিনি। এই মৌসুমে সব মিলিয়ে তার উইকেট সংখ্যা ৬০টি। রঞ্জির ইতিহাসে তৃতীয় পেসার হিসেবে এক মৌসুমে এত উইকেট নেওয়ার বিরল নজির গড়েছেন তিনি।
শুধু রঞ্জি নয়, সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও সমান উজ্জ্বল ছিলেন আকিব। সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে ১৫টি (গড় ১৩.২৬, ইকোনমি ৭.৪১) এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে ১৪টি উইকেট (গড় ২২.৮৫) নিয়েছিলেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন ঈর্ষণীয় পারফরম্যান্সের কারণেই আসন্ন আইপিএলে তাকে ৮.৪ কোটি রুপিতে দলে ভিড়িয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস।
বল হাতে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের পর আকিবকে ভারতের জাতীয় দলে দেখার অপেক্ষায় আছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। তার এই উত্থানে বড় অবদান রয়েছে জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (জেকেসিএ) সাবেক কর্তা ও বর্তমান বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের। আকিবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মানহাস বলেন, ‘সে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। শুধু এই মৌসুমেই নয়, গত মৌসুমেও সে অসাধারণ ফর্মে ছিল। সব ফরম্যাটেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে সে। নির্বাচকরা আকিবের ওপর কড়া নজর রাখছেন। আমি নিশ্চিত, এর প্রতিদান সে পাবে এবং আশা করি জাতীয় দলেও সুযোগ পাবে।’
হুবলিতে পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতার। প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের বিশাল লিড থাকায় জম্মু ও কাশ্মীরের চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। মন্থর উইকেটে কর্ণাটকের বোলাররা কোনো সুবিধাই করতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে মূল বোলারদের বিশ্রাম দিতে এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বল হাতে তুলে নেন ব্যাটার কেএল রাহুল।
অন্যদিকে, বাকি সময়টা উৎসবে মেতেছিলেন কাশ্মীরের ব্যাটাররা। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার কামরান ইকবাল (১৬০*) ও সাহিল লোত্রা (১০১*) দুজনেই দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন। দুপুর ২টা ১১ মিনিটে দুই অধিনায়ক হাত মেলালে ম্যাচ ড্র ঘোষণা করা হয় এবং প্রথম ইনিংসের লিডের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উল্লাসে মাতে জম্মু ও কাশ্মীর।
পুরো টুর্নামেন্টেই অবিশ্বাস্য ক্রিকেট খেলেছে জম্মু ও কাশ্মীর। শ্রীনগরে শক্তিশালী মুম্বাইকে এবং দিল্লিতে স্বাগতিকদের নাস্তানাবুদ করার পর নকআউট পর্বে ইন্দোরে মধ্যপ্রদেশ ও কলকাতায় বাংলাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা। ফাইনালেও বজায় রাখে সেই আধিপত্য।
এই জয়ে আকিব নবি হয়েছেন আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছেন। অন্যদিকে দীর্ঘ ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে ১০ হাজারেরও বেশি রান করার পর অবশেষে প্রথম কোনো বড় শিরোপার স্বাদ পেলেন অধিনায়ক পরশ ডোগরা।