বিনোদন ডেস্ক | রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পার্থ বড়ুয়ার একক অ্যালবাম ‘মুখোশ’-এর ঘোষণা এসেছিল ছয় বছর আগে। ‘শহর ও মেঘদল’ এবং ‘বৃষ্টির গান’ শিরোনামে দুটি গানও প্রকাশ পেয়েছে। এরপর গত কয়েক বছরে এই অ্যালবামের আর কোনো গানের প্রকাশনা চোখে পড়েনি। ব্যান্ড সোলসের পাঁচ দশক পূর্তির ধারাবাহিক আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে পার্থ বড়ুয়াকে। দীর্ঘ বিরতির পর এলো ‘মুখোশ’ অ্যালবামের গান।
সম্প্রতি শিল্পীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করা হয়েছে। গীতিকবি রানার লেখা ‘মুখোশ’ গানটির সংগীতায়োজন করেছেন শিল্পী পার্থ নিজে। প্রযোজনা করেছেন অভিক।
এ আয়োজন নিয়ে পার্থ বড়ুয়া বলেন, ‘মুখোশ’ গানে আমাদের ভেতর ও বাইরের দিকটি উন্মোচন করার চেষ্টা করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, আমরা সবাই কিন্তু মুখোশ পরে থাকি। আমাদের ভেতরে রূপ এক, বাইরে আরেক। সাধারণত ব্যান্ডে আমরা যে ধরনের গান করে থাকি, এটি তা থেকে অনেকে আলাদা। তাই বাণিজ্যিক ভাবনাকে দূরে রেখেই ‘মুখোশ’ অ্যালবামের আয়োজন। আশা করছি, এই গানসহ অ্যালবামের সব গানই শ্রোতার মনে ছাপ ফেলবে।
পার্থ আরও জানান, গানের ভুবনে তাঁর পথচালা প্রায় চার দশকের। এই দীর্ঘ সংগীতজীবনে কখনও একক অ্যালবাম প্রকাশ করেননি। ইচ্ছা হয়নি, ব্যান্ডশিল্পীর পরিচয়কে ছাপিয়ে এককভাবে কিছু করার। সব সময় চেয়েছেন সোলস ব্যান্ডের সদস্য হিসেবে তাঁর পরিচিতি গড়ে উঠুক। তারপরও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তেমনই ভিন্ন ধাঁচের পাঁচটি গান তৈরির পর মনে হয়েছে, সেগুলো আলাদাভাবে প্রকাশ করার।
এ বিষয়ে সোলস ব্যান্ডের সদস্যরা সমর্থন জুগিয়েছেন। তাদের ইচ্ছাতেই গানগুলো ‘মুখোশ’ শিরোনামে একক অ্যালবামের মাধ্যমে প্রকাশ করা। এটি তাঁর শিল্পীজীবনের প্রথম মৌলিক একক অ্যালবাম; যার সব গান লিখেছেন গীতিকবি রানা। সুর ও সংগীতায়োজন পার্থ নিজেই করেছেন জানান।
এদিকে পার্থ বড়ুয়া এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁর ব্যান্ড সোলসের সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন নিয়ে। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হয়েছিল সোলসের সুবর্ণজয়ন্তীর ধারাবাহিক কনসার্ট পর্ব। পাশাপাশি নতুন সংগীতায়োজনে জনপ্রিয় পুরোনো গানগুলোর পাশাপাশি কিছু আনকোরা গান করেছে।
এই ব্যান্ড সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ছিল, সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে ৫০টি গান প্রকাশ করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতি মাসেই গান প্রকাশ করা হচ্ছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলন শুরুর পর থেকে বদলে যেতে শুরু করে দেশের প্রেক্ষাপট। এরপর গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসকের পতনসহ অনেক ঘটনার সাক্ষী হতে হয়েছে তাদের। তাই দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে শেষমেশ সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের বিরতি টানতে হয় তাদের।
এরপর গত বছর মে মাস থেকে ব্যান্ডের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু করে তারা। ‘মাস্টারকার্ড প্রেজেন্টস সোলস আনপ্লাগড: ফিফটি ইয়ার্স অব টাইমলেস মিউজিক’ কনসার্টের মাধ্যমে শুরু হয় দ্বিতীয় উদযাপন পর্ব। সোলসের বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি নকীব খান, পিলু খানসহ ব্যান্ডের পুরোনো সদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন সে আয়োজনে।