শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

বছরে একটি সিনেমা করে জীবিকা নির্বাহ সম্ভব নয়: চঞ্চল

বিনোদন ডেস্ক   |   বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৭৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বছরে একটি সিনেমা করে জীবিকা নির্বাহ সম্ভব নয়: চঞ্চল

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর হাতে এখন একাধিক সিনেমার কাজ। এরই মধ্যে নির্মাতা রেদওয়ান রনির ‘দম’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন। গেল মাসে শুরু করেছেন নিমার্তা তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর শুটিং। এছাড়া নির্মাতা রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’ সিনেমার শুটিংও শেষের দিকে। এর মাঝেই সোমবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘শাস্তি’ অবলম্বনে নির্মিত একই নামে আরও একটি নতুন সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। এটি নির্মাণের দায়িত্বে আছেন লীসা গাজী।

নতুন সিনেমা প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “এই সিনেমাটি আমার কাছে বিশেষ। কারণ, এর আগে কখনও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পে কাজ করা হয়নি। এবার সেই সুযোগ এসেছে, তাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজটি করতে চাই।”

দেশের সিনেমার আন্তর্জাতিক অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “গত ২০-২৫ বছরের ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, বাংলাদেশের সিনেমা অনেক দূর এগিয়েছে। জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের উপস্থিতি গর্বের। রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে এবারই প্রথম বাংলাদেশের তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে-এটা বিশাল অর্জন। এই সাফল্যের অংশীদার দর্শক থেকে শুরু করে নির্মাতা, কলাকুশলী, প্রযোজক, সাংবাদিকসহ সবাই।”

দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা তুলে ধরে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “আমরা এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ প্রফেশনাল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে পারিনি। সবাই মিলে কাজ করলে ইন্ডাস্ট্রিটা আরও দ্রুত এগোতে পারত। আমরা অভিনয় শুরু করার সময় ভেবেছিলাম, পরিস্থিতি বদলাবে-কিন্তু তা হয়নি, এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য।”

বর্তমানে দেশের সিনেমা অনেকটাই ঈদ কেন্দ্রিক। আগামী ঈদে চঞ্চলের ‘দম’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’সহ তিনটি সিনেমার মুক্তির কথা রয়েছে। ঈদে এক শিল্পীর একাধিক সিনেমা মুক্তি পাওয়া মানে সিনেমাগুলো দর্শক দেখবে না-এমনটি নয়। এক শিল্পীর একাধিক সিনেমার বিষয় তুলে ধরেন এই অভিনেতা।

চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “প্রযোজক থেকে শিল্পী-সব দিক মিলিয়ে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির যে কাঠামো, তাতে বছরে একটি সিনেমা দিয়ে কেউ জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে না। এটা কোনো অভিযোগ নয়, এটা বাস্তবতা। তাই বছরে দুই–তিনটি সিনেমায় কাজ করতে হয়, যেগুলোর মুক্তির লক্ষ্য থাকে দুই ঈদ। আগে পরিবার বাঁচাতে হবে, তারপর ভিন্ন গল্পের বিষয় ভাবা যাবে।”

দর্শকের প্রসঙ্গে চঞ্চল বলেন, “ঈদে যদি ভালো আটটি সিনেমা মুক্তি পায়, দর্শক সবগুলোই দেখবে। কারণ, আমাদের দেশের মানুষ সিনেমা ভালোবাসে। আমার ‘রূপকথার গল্প’, ‘মনপুরা’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক কাজগুলো দর্শক গ্রহণ করেছে গল্প, নির্মাণ ও অভিনয়ের জন্যই। দর্শক ভালো কাজ পেলে কখনও বিমুখ হয় না। কিন্তু খারাপ কাজ করে দর্শক না আসার অভিযোগ করলে তা যুক্তিসংগত নয়।”

বাণিজ্যিক, আর্ট ঘরানা ও ওটিটি-সব মাধ্যমেই কাজ করছেন চঞ্চল। শাকিব খানের সঙ্গে ‘তুফান’ সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শাকিব খানের আলাদা দর্শক আছে, আমাদেরও কিছু দর্শক আছে। একসঙ্গে কাজ করলে সব ধরনের দর্শকের কাছে পৌঁছানো যায়। ‘তুফান’ দিয়ে এটাই প্রমাণ হয়েছে। আমাদের দেশে কিছু আর্ট ফিল্ম আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা পেলেও দেশীয় দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে না কাঠামোগত সমস্যার কারণে। সবাই মিলেমিশে কাজ করলে সিনেমা ও ইন্ডাস্ট্রি- দুটোই এগোবে।”

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম