শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ভিডিও দেখে রনির হার্ডলসে আসা

খেলা ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৭৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভিডিও দেখে রনির হার্ডলসে আসা

তিন দিন আগে ৪০০ মিটার হার্ডলসে হেসেছিলেন সোনালি হাসি। অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে জানতে পারেন সেপ্টেম্বরে টোকিওতে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর নাম চূড়ান্ত করেছে ফেডারেশন। সৈনিক থেকে হার্ডলসের রাজা হওয়া নাজমুল হোসেন রনির উচ্ছ্বাসটা তাই একটু বেশি। বিশ্বমঞ্চে নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা রনি অ্যাথলেটিকসের সুযোগ-সুবিধাসহ নানান বিষয়ে কথা বলেছেন সমকালের সঙ্গে। তা শুনেছেন সাখাওয়াত হোসেন জয়

সমকাল: জাপানে বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে খেলতে যাচ্ছেন। কেমন লাগছে?

রনি: জাপানে বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে খেলতে যাব বলে খুবই ভালো লাগছে। আমাদের টিম অফিসিয়ালের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে আমি বিশ্বমঞ্চে খেলব। এরপর ফেডারেশনে আমাকে ডাকা হয়। তখন নিশ্চিত হয়েছি যে আমি টোকিওতে যাচ্ছি।

সমকাল: আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে সাধারণত স্প্রিন্টারদেরই পাঠানো হয়। এবার হলো ব্যতিক্রম।

রনি: এই ধারাটা পরিবর্তন হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রথা ভাঙাটা প্রয়োজন। ফেডারেশন প্রথাটা পরিবর্তন করবে বিষয়টা কিন্তু এমন না। যদি অ্যাথলেটরা ভালো করেন, তাহলে অবশ্যই পরিবর্তন প্রয়োজন। ফেডারেশন বর্তমানে যেটি বিবেচনা করছে, এভাবে বিবেচনা করলে পরিবর্তন হবে। যারা ভালো করবেন, তারাই যেন সুযোগ পান আমি এটিই চাই।

সমকাল: বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে আপনার লক্ষ্য কী?

রনি: আমি চাইবো আমার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সটা উন্নতি করতে; যেন নিজের রেকর্ড ভাঙতে পারি সেটিই আমার লক্ষ্য। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় আসরে ৫০ দশমিক ৮৪ টাইমিং করেছিলাম। টোকিওতে সেই রেকর্ডটা ভাঙতে চাই।

সমকাল: এবারের সামার অ্যাথলেটিক্সে নিজের পারফরম্যান্স কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

রনি: প্রকৃতপক্ষে এখানে পারফরম্যান্সটা একটু খারাপই ছিল। এর কারণ হলো খেলার কিছুদিন আগে সামান্য চোট পেয়েছিলাম; যার কারণে ১০ দিনের মতো ট্রেনিং করতে পারিনি। আমি সার্বিকভাবে এই পারফরম্যান্সে খুশি না। এর থেকে ভালো কিছু করা সম্ভব আমার পক্ষে। আমি চাইব এখানে যেটি করতে পারিনি, সেটি বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে করতে।

সমকাল: গত ফেব্রুয়ারিতে তো রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার তার চেয়ে কম টাইমিং করেছেন। একটু খারাপ লাগছে কিনা?

রনি: অবশ্যই খারাপ লাগছে। রেকর্ড যে ভাঙতে পারব বা ভাঙব বিষয়টা এমন না। তবে টাইমিংটা অনেকটাই খারাপ হয়েছে আমার।

সমকাল: অনেক ইভেন্ট থাকতে হার্ডলসকে বেছে নেওয়ার কারণ কী?

রনি: যখন খেলাধুলা শুরু করি, তখন ওইভাবে চিন্তা করিনি যে আমি হার্ডলসেই খেলব। আমি অ্যাথলেটিক্স খেলার ভিডিও বেশি দেখতাম। এই ভিডিও দেখার পর আমার কেন যেন হার্ডলসে ভালো লেগে যায়; যার কারণে এই ইভেন্টে আসা।

সমকাল: অন্যান্য খেলাধুলায় না গিয়ে কম সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অ্যাথলেটিকস বেছে নেওয়ার কারণ কী?

রনি: আমি তো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরে খেলোয়াড় হয়েছি। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিই। আর্মিতে আসার পর আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতা হয়। আর্মিতে প্রথম প্রতিযোগিতা পেয়েছিলাম অ্যাথলেটিক্স। আমার রানিংটাও ভালো। সেই হিসেবে সিনিয়ররা আমার নাম লেখান। সেখান থেকেই এই খেলার সঙ্গে যুক্ত।

সমকাল: অ্যাথলেটিকসে সুযোগ-সুবিধা তো সেভাবে নেই। তারপরেও কেন এই পেশায় এসেছেন?

রনি: আমাদের সেনাবাহিনীতে দৈনন্দিন যে কাজগুলো থাকে একজন খেলোয়াড়ের জন্য এগুলো মাফ করে দেওয়া হয়। সাধারণত আমার সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগে রাতের বেলায় ঘুম নষ্ট করে ডিউটি করা। এটি ভেবেই খেলাধুলায় আসা, যে খেলাধুলা করলে রাতে ঘুমাতে পারব। সেখান থেকেই শুরু। অ্যাথলেটিক্সে সুযোগ-সুবিধার অনেকটাই ঘাটতি আছে। এই খেলাটা অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় ফেডারেশন সেভাবে ওই ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছে না। তবে ফেডারেশন চেষ্টা করছে। যেহেতু সেনাবাহিনীতে আছি, সেখান থেকে অনেক সাপোর্ট পাচ্ছি। তবুও আমাদের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা সেভাবে হয় না। অ্যাথলেট হিসেবে আমাদের আরও উন্নতমানের খাদ্য থাকা প্রয়োজন। এটি হয়তোবা আমরা করতে পারি না। এ কারণে অ্যাথলেটের উন্নতিরও একটা ঘাটতি রয়ে গেছে। এ বিষয়ে ফেডারেশন এবং আমরা যে সংস্থাগুলোতে খেলি, তাদের আরেকটু তৎপর হলে ভালো হতো।

সমকাল: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরিটা কী স্থায়ী?

রনি: স্থায়ী। আমি সাধারণ সৈনিক হিসেবে ভর্তি। প্লেয়ার হয়েছি আর্মিতে আসার পরে।

সমকাল: ক্যারিয়ারে আপনার স্বপ্নটা কী?

রনি: এখন খেলাধুলা বিষয়ে স্বপ্ন দেখি বেশি। এখন ভালো করছি এটির যেন শেষ না হয়। দিন দিন উন্নতি করতে চাই। যতদিন সম্ভব ধরে রাখার।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম