খেলা ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০৫ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট | ১২৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
৩৫ রানের জন্য মাঠে নামা, তাও ওভালের পুরো গ্যালারির টিকিট ছিল সোল্ড আউট। বলেও দেওয়া হয়েছিল পনেরো ওভারের নিচে ম্যাচ শেষ হয়ে গেলে ফেরত দেওয়া হবে টিকিটের অর্ধেক দাম। গতকাল ওভালে থাকা দর্শকদের কেউ বোধহয় ৮.৫ ওভারের পর সেই পঁচিশ পাউন্ডের টিকিটের বাকি অর্থ ফেরত নেবেন না। বরং টিকিটটিই স্মারক হিসেবে রেখে দেবেন তারা।
তা শুধু দুর্দান্ত একটি টেস্ট দেখার সাক্ষী হিসেবে নয়, বরং ক্রিস ওকসের ভাঙা কাঁধে স্লিংয় বেঁধে ব্যাটিংয়ে নামার ঐতিহাসিক মুহূর্তটি কাছ থেকে দেখার জন্যও। এ দিন তিনি যখন ড্রেসিংরুমের সিঁড়ি ভেঙে মাঠে নামছিলেন তখন পুরো ওভাল উঠে দাঁড়িয়ে কুর্নিশ করেছেন তাঁকে। ক্রিজে যাওয়ার পর অ্যাটকিনসন আগলে রেখেছেন স্ট্রাইকিংয়ে না যেতে দিয়ে।
সবশেষে শুভমান গিলরা শ্রদ্ধাভরে এগিয়ে গিয়ে তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। ‘ব্রোকেন বাট নট বিটেন’–ওভালে এভাবেই ওকসের ১৬ মিনিট ক্রিজে থাকাকে ব্যাখ্যা করেছেন অনেকে। যদিও দলকে জেতাতে পারেননি ওকস, কোনো বোলারকেও মোকাবিলা করতে হয়নি তাঁর। যে প্রবল নিবেদন নিয়ে তিনি ক্রিজে এসেছিলেন, যে ঝুঁকি এড়িয়ে তিনি দলকে জেতানোর জন্য মাঠে নেমেছিলেন, সেই বীরত্বগাথা লেখা থাকবে ক্রিকেটের ইতিহাসে।
যেখানে ম্যালকম মার্শাল, সেলিম মালিকদের নাম লেখা আছে। দলের প্রয়োজনে চোট আঘাতকে তুচ্ছ করে টেস্টে এক হাতে ব্যাট করতে নেমেছিলেন। এভাবে এক হাতে ব্যাট করতে নামার টাটকা উদাহরণ বাংলাদেশের তামিম ইকবাল খান। ২০১৮ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক হাতে ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন তামিম। ইনিংসের শুরুতে লাকমালের বলে বাঁ হাতের আঙুলে আঘাত পান। ব্যান্ডেজ নিয়ে বাংলাদেশের ৯ উইকেট পরে যাওয়ায় ফের মাঠে নামেন তিনি। সেই ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ।
তারও আগে ১৯৮৬ সালে ফয়সালাবাদে ভাঙা হাতে এভাবেই ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন সেলিম মালিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই টেস্টে ম্যালকম মার্শালের বোলিংয়ে হাত ভেঙে যায় সেলিম মালিকের। বাম হাতের কনুই পর্যন্ত প্লাস্টার বেঁধে শেষ উইকেটে তিনি ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন। সেদিন ক্রিজে এসে প্রথমে বাম হাতে, পরে ডান হাতে ব্যাটিং করেছিলেন তিনি। ১৪টি বল মোকাবিলা করেছিলেন প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে। সেলিম মালিকের সেই নিষ্ঠা আর বীরত্বে টেস্ট জিতে যায় পাকিস্তান।
তারও দুই বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার ম্যালকম মার্শাল লিডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিল্ডিং করতে নেমে বুড়ো আঙুল ভেঙে ফেলেন। পরে আঙুলে বেন্ডিজ নিয়েই ব্যাটিং ও বোলিং করেছিলেন মার্শাল। টেস্টটি জিতেও ছিল উইন্ডিজ। সেই ইতিহাস নিয়ে আজও গর্ব করে উইন্ডিজ। যেমনটা করবে ওকসের এক হাতে সিলিং বেঁধে ব্যাটিং করতে নামার জন্য।