শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বহুমুখী সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের পাশাপাশি জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আসুন, একসঙ্গে একটি শক্তিশালী, উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বহুমুখী সম্পর্ককে আরও গভীর করি।’

চলমান জাপান সফরকে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। শীর্ষ বৈঠককে ফলপ্রসূ আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দুই নেতা গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে তাঁদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারিত্বকে দেশের মানুষের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুযোগে রূপান্তর করা।

জ্বালানি নিরাপত্তায় ৫ হাজার কোটি ইয়েন সহায়তার আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা হয়েছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, এ বিনিয়োগ শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের তরুণ কর্মশক্তির জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা

প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

এ ছাড়া মহাকাশ বিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে সহযোগিতা, ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে সংযুক্তকারী দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ এবং আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যৌথ সমৃদ্ধির নতুন কাঠামোর আওতায় বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিগ-বি) উদ্যোগ এগিয়ে নিতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এ উদ্যোগে জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এর মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্ব

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে একটি মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি মিয়ানমারে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসইভাবে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে টোকিওর ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা কামনা করেন।

দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের স্মরণ

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে সহায়তা করেছিলেন। তাঁর মা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও জাপান সফর ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

জাপানের বন্ধুত্ব, উদারতা ও সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর তাঁর সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থপূর্ণ কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, দেশটির সরকার ও জনগণকে আতিথেয়তা এবং বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান।

চার দিনের সরকারি সফর

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে জাপানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন সহযোগিতা ত্বরান্বিত করা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কানতেইতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিদেশি বিনিয়োগে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে আলোচনার ফলাফল নিয়ে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সূত্র: বাসস

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম