নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে প্রতিদিন ব্রংকসের পার্কচেষ্টারে বসছে ভোটারের মেলা। তা ফাইভ স্টার রেষ্টুরেন্ট, হাসান চাইনিজ, নিরব রেষ্টুরেন্ট, মান্নান বেকারি কিংবা আল আকাসায়। জটলা কিংবা আড্ডা। সর্বত্রই নির্বাচনী আলোচনা। চুলছেড়া বিশ্লেষন চলছে। কোন প্যানেল জিতবে ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে। সেলিম—আলী নাকি কুনু—ফিরোজ। সাধারন ভোটাররা বলছেন, এবার একক নিরংকুশভাবে কোন প্যানেল জিততে নাও পারে। কিছু পদে ২ প্যানেলের ভাগাভাগি হবে। তবে তা নির্ভর করছে ভোটের দিন কোন প্যানেল তার সর্মথকদের বেশি পরিমানে ভোট কেন্দ্রে আনতে পারেন। তবে ব্রংকসে এগিয়ে সেলিম—আলী প্যানেল। ব্যবধানটি কত হবে তা ভোটের দিনই দেখা যাবে।
ব্রংকস কেন্দ্রে মোট ভোটার প্রায় ৭ হাজার। ভোট বানানোর বিবেচনায় ব্রংকসে এগিয়ে সেলিম— আলী প্যানেল। সেলিমের অনুসারিদের দাবি অনুসারে তারা ভোট তুলেছেন প্রায় ৫ হাজার। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বলা যায়, কুনু—প্যানেলের ভোট ২ হাজার। কিন্তু পার্কচেষ্টারে হাঁটতে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ২ প্যানেলেরই প্রচারণা চলছে সমান্তরালে। বোঝার উপায় নাই কোন প্যানেল এগিয়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেলিম—আলী প্যানেলের হয়ে গত নির্বাচনে যারা কাজ করেছেন, তাদের অনেকেই এখন কুনু—ফিরোজ প্যানেলে। যেমন জামিল আনসারী গত নির্বাচনে নির্বাচন করেছেন সেলিম—আলী প্যানেল থেকে। এবার লড়ছেন কুনু—ফিরোজের হয়ে। স্থানীয় সিলেটবাসীরা সার্প ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তাদেরই ২ সন্তান সেলিম ও কুনু উভয়েই সভাপতি পদপ্রার্থী। ভোটাররা বলছেন, তারা ২ জন আবার ব্যবসায়িক পার্টনারও। তারপরও ২ নৌকায় পা তাদের। গত নির্বাচনে এই আজমল হোসেন কুনুই ছিলেন সেলিম—আলী প্যানেলের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান। এবার মুখোমুখি লড়ছেন সেলিমের বিরুদ্ধেই। এতে ব্রিবত সিলেটের ভোটাররা।
ব্রংকসে সেলিম—আলী প্যানেলের হয়ে কাজ করছেন মাহবুব আলম,রেজা আব্দুল্লাহ,জুনেদ চৌধুরী, আব্দুল হাসিব হাসনু, শামীম আহমেদ,রবিউজ্জামান, মমিনুল ইসলাম,আব্দুর রব ধলা মিয়া,লোকমান হোসেন লুকু ও রোকন হাকিম সহ অনেকে।
কুনু—ফিরোজ পরিষদের পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন জগলুল আহমেদ চৌধুরী, সোলায়মান ইসলাম, গোল্ডেন প্যালেসের মালিক বেলাল হোসেন, জামিল আনসারি, গউস উদ্দীন, সোলায়মান ভঁূইয়া ও মাইন উদ্দিন নটু সহ অনেকেই। গোল্ডেন প্যালেসের বেজমেন্টে কুনু—ফিরোজ পরিষদের অফিসও উদ্বোধন করা হয়েছে। এই প্যানেলের একজন সমন্বয়ক ভোট বানানের দৌড়ে ব্রংকসে তাদের পিছিয়ে থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তবে তিন বলেন, গতবারের ভোটার তালিকা দেখে গনহারে সেলিম ভাইরা ভোট বানিয়েছে। এর অনেক ভোটই তাদের ট্রাকে নেই। হদিসও নেই। তরা বেশি ভোট বানানোর দাবি করলেও বাস্তবে তত নয়। সোলায়মান ইসলাম বলেন, আমরা ভোট করেছি গুনে গুনে। প্রত্যেকের সাথে আমাদের যোগাযোগ আছে। আমাদের ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে পারলেই ফলাফল পাল্টে যাবে। মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। তা দেখার জন্যই তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। কে ভোট বানালো তা অনেকাংশেই কাজ করবে না। মানুষ যোগ্যতাও দেখবে। প্রতিবেদক সাধারন ভোটারদের সাথে আলোচনা করে বুঝতে পেরেছেন, অনেকেই এস্টাব্লিস্টমেন্টের বিপক্ষে। পরিবর্তন দেখতে তারা আগ্রহী। তবে প্যানেল ভোট এই নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর ।
সেলিম—আলী প্যানেলের পরিচালনা কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা রোকন হাকিম প্রতিবেদককে বলেন, গেল নির্বাচনে সেলিম—আলী প্যানেল ১২০০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। এবার এ ধরনের ব্যবধানই হবে বলে আমার বিশ্বাস। সেলিম—আলী প্যানেল ভোট সংখ্যার বিবেচনায় ব্রংকসে অনেক এগিয়ে আছে। ব্রংকসে বাংলাদেশি কমিউনিটির অধিকাংশ মানুষই সেলিম—আলীকে বেছে নিবে বলে আমার বিশ্বাস।