ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং খনিজ সম্পদ থেকে আয় বাড়াতে বুরকিনা ফাসো প্রথমবারের মতো স্বর্ণ শোধনাগার (গোল্ড রিফাইনারি) চালু করেছে। রাজধানী ওয়াগাদুগুতে ‘রাফিনোর-বিএফ’ নামের এই শোধনাগার উদ্বোধন করেন দেশটির সামরিক সরকারপ্রধান ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ত্রাওরে বলেন, মূল্যবান ধাতু বিদেশে রপ্তানি করে প্রক্রিয়াজাত করার দীর্ঘদিনের প্রবণতা বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বুরকিনা ফাসোর সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে।
ত্রাওরে স্পষ্টভাবে জানান, দেশের সব ধাতু নিজেদের ভূখণ্ডেই শোধন করতে চায় বুরকিনা ফাসো। খনিজ সম্পদের পুরো ভ্যালু চেইনের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে রাখার লক্ষ্য সরকারের।
দেশটির খনি মন্ত্রী ইয়াকুবা জাব্রে গুবা বলেন, ‘আজ নিজেদের ঘরের চাবি নিজেদের হাতে ফিরে পাওয়ার দিন।’ তিনি বলেন, বুরকিনা ফাসোর স্বর্ণ ব্যবহার করে অন্য কেউ আর মূল্য সংযোজন করবে না, অথচ দেশের মানুষ অভাব-অনটনে থাকবে—এটি হতে দেওয়া হবে না।
আফ্রিকার অন্যতম শীর্ষ স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ বুরকিনা ফাসো। নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটিকে একটি আঞ্চলিক স্বর্ণ শোধন কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বুরকিনা ফাসোর স্বর্ণ উৎপাদন ১৭ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিস্তীর্ণ অনানুষ্ঠানিক ও ক্ষুদ্র খনি খাত নিয়ন্ত্রণে সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্যের কারণে দেশটিতে উত্তোলিত স্বর্ণের সঠিক হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের অভিযোগ, অবৈধভাবে পাচার হওয়া স্বর্ণের একটি অংশ থেকে ওই অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র জিহাদি ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো অর্থায়ন পেয়ে থাকে। এসব গোষ্ঠী বছরের পর বছর ধরে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
প্রেসিডেন্সির তথ্য অনুযায়ী, নতুন শোধনাগারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি সিএফএ ফ্রাঙ্ক (প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার)। জাতীয় প্রেশাস মেটাল কোম্পানি ও দেশীয় বেসরকারি খাতের যৌথ অংশীদারত্বে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে শোধনাগারটির বার্ষিক ১৬৪ টন স্বর্ণ শোধনের সক্ষমতা রয়েছে। এই সক্ষমতা দেশটির বর্তমান বার্ষিক মোট স্বর্ণ উৎপাদনের চেয়েও বেশি। ভবিষ্যতে শোধনাগারটির সক্ষমতা ৫১৫ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন ৩৮ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে। এরপর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে জাতীয়তাবাদী নীতি গ্রহণ করেছে তার সরকার।
এর অংশ হিসেবে দুই বছর আগে একটি রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পাশাপাশি বিদেশি খনি কোম্পানিগুলোর জন্য ১৫ শতাংশ রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অনানুষ্ঠানিক খাত নিয়ন্ত্রণে ২০২৪ সালে ক্ষুদ্র খনি থেকে উত্তোলিত কাঁচা স্বর্ণ রপ্তানি স্থগিত করে সরকার। শুধু স্বর্ণ নয়, তুলা, টেক্সটাইল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো বিভিন্ন শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনেরও চেষ্টা করছে বুরকিনা ফাসোর বর্তমান সরকার।
সূত্র: বিবিসি