শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ গতির ক্ষেপণাস্ত্র আনল তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ গতির ক্ষেপণাস্ত্র আনল তুরস্ক

তুরস্ক প্রথমবারের মতো তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘ইয়িলদিরিমহান’ (বাংলা অর্থ, বিদ্যুৎ বা বজ্র) প্রদর্শন করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির গায়ে একদিকে রয়েছে অটোমান সুলতান প্রথম বায়েজিদের মনোগ্রাম, অন্যদিকে খোদাই করা হয়েছে আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতীক।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে স্বাবলম্বী হওয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার লক্ষ্যেই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে তুরস্ক। এটি তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রে তৈরি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ইস্তাম্বুল এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘সাহা ২০২৬’ প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক নমুনা প্রদর্শন করা হয়।

তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসির গুলের জানিয়েছেন, এটি দেশটির প্রথম তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যাতে হাইপারসনিক প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাঁর দাবি, এটিই তুরস্কের তৈরি সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়িলদিরিমহানের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার। এতে চারটি রকেট ইঞ্জিন রয়েছে এবং এটি শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ২৫ গুণ বেশি গতিতে চলতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে তরল নাইট্রোজেন টেট্রোঅক্সাইড জ্বালানি ব্যবহার করা হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতির কারণে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’-এর মতে, যেসব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা পাঁচ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের (প্রায় ৩৪১৮ মাইল) বেশি, সেগুলো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম হিসেবে গণ্য করা হয়। তুরস্ক থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে এ ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। ইয়িলদিরিমহানের সর্বোচ্চ গতি হবে শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি (ম্যাক ২৫)। এতে চারটি রকেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর জ্বালানি হিসেবে থাকছে লিকুইড নাইট্রোজেন টেট্রোঅক্সাইড। ক্ষেপণাস্ত্রটি তিন হাজার কেজি ওজনের যুদ্ধাস্ত্র বহন করতে পারবে।

তুরস্ক এখনও এ ক্ষেপণাস্ত্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুরস্কের এ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম