শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

প্রচারে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিজেপি-তৃণমূলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

প্রচারে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিজেপি-তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থীরা এখন প্রচারণায় ব্যস্ত। রাজ্যের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রচার অভিযানে বিপুল বিনিয়োগ করছে। তবে তাদের মূল বার্তা একেবারেই ভিন্ন। বিজেপি নিজেকে নৈতিক উচ্চভূমিতে দাঁড় করিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলছে। অন্যদিকে বিজেপিকে এক ধরনের ‘বুলিং’ বা আগ্রাসী বহিরাগত শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে তৃণমূল।

বিজেপি ও তৃণমূল দুই ভিন্ন মানসিকতার ভোটারকে লক্ষ্য করে আলাদা কৌশল গ্রহণ করেছে। নিজেদের লক্ষ্যভিত্তিক ভোটার চিহ্নিত করা, তাদের উপযোগী বার্তা তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের ভিন্ন ভিন্ন রূপকল্প তুলে ধরা– এই দিকগুলোতেই তাদের পার্থক্য স্পষ্ট। বিজেপি ‘চার্জশিট’ ভাষা এবং ‘কাটমানি’ সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে ভোটারদের মধ্যে নৈতিক ক্ষোভ উস্কে দিতে চায়। এটি একটি পরিচিত নেতিবাচক প্রচার কৌশল। জটিল শাসনসংক্রান্ত সমস্যাকে সরল আবেগে রূপান্তর করে বারবার তুলে ধরা, যাতে তা সাধারণ সত্য বলে মনে হয়। পশ্চিমবঙ্গে তাদের কৌশল আগের তুলনায় আরও সংগঠিত।

মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই পার্থক্য স্পষ্ট। ইংরেজি সংবাদপত্রে প্রায় প্রতিদিন প্রথম পাতায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে বিজেপি দুটি বিশেষ ভোটার গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করছে: অ-বাংলাভাষী বাসিন্দা এবং শহুরে, উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণি। বিজ্ঞাপন শুধু তথ্য পৌঁছানোর জন্য নয়, বরং সামাজিক অবস্থান ও শ্রেণিগত বার্তা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল তাদের প্রচারে ‘অন্তর্ভুক্তি’ ও ‘নিজস্বতার’ ভাষাকে গুরুত্ব দিয়েছে। ‘বহিরাগত’ ধারণাটি অত্যন্ত শক্তিশালী। কারণ এটি বিজেপিকে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং এক ধরনের আগন্তুক হিসেবে চিত্রিত করে। এটি একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান, যা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে সাংস্কৃতিক আত্মরক্ষায় রূপান্তর করে।
সামাজিক মাধ্যমে উভয় দলই খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মতো বিষয়কে সামনে এনে ভোটারদের আলাদা করার চেষ্টা করছে। এটি কৌশলী হলেও ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্তভাবে জীবনধারাভিত্তিক বিভাজন করলে ভোটাররা নিজেদের ‘বিভাগীকরণ’ হচ্ছে বলে অনুভব করতে পারেন।

কংগ্রেস, বাম দলগুলো এবং কিছু সংখ্যালঘুকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল এখন আর কেন্দ্রস্থলে নেই। তারা পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিকও নয়। বরং এক ধরনের পটভূমি হিসেবে রয়ে গেছে, যা অতীতের রাজনৈতিক ভাষা ও আবেগের স্মারক এবং কিছু ক্ষেত্রে ‘স্পয়লার’ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে বিজেপিকে শূন্য করে বাংলাকে পূর্ণ করার ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শুক্রবার রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুরে একটি নির্বাচনী প্রচারণা থেকে মমতা বলেন, দেশের পাঁচটি রাজ্যে ভোট হচ্ছে। এই পাঁচ জায়গা থেকে ৫০৬ জন সরকারি কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল বাংলা থেকেই ৪৮৩ জন রয়েছেন। আপনারা কি এই খেলাটা বুঝতে পারছেন?

শনিবার মালদার মানিকচকের এনায়েতপুর গ্রামীণ গ্রন্থাগার ফুটবল ময়দানের জনসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন মমতা। তিনি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে কেন্দ্র সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। বিধানসভা নির্বাচনে মালদহে প্রচারে জোর দিচ্ছে তৃণমূল। গতকাল সেখানে পর পর তিনটি জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও আনন্দবাজার পত্রিকা

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম