শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু কে এই খামেনি, কেন তিনি সম্ভাব্য টার্গেট?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু কে এই খামেনি, কেন তিনি সম্ভাব্য টার্গেট?

ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ফের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, তার কার্যালয় ও আবাসিক কমপ্লেক্সসংলগ্ন এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে- কে এই খামেনি, কেন তাকে সম্ভব্য লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে?

কে এই খামেনি
৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি। খোমেনি নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে ১৯৭৯ সালের ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাসক মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনের অবসান ঘটে।

ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতাই রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। সেই হিসেবে খামেনির রাষ্ট্রের নির্বাহী, সামরিক ও বিচার বিভাগ- সবকিছুর ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ও সংসদ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতার মতই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। িএকই সঙ্গে তিনি দেশটির আধ্যাত্মিক নেতাও। তার শাসনামলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের বিরোধ আরও প্রকট হয়েছে। দেশটি কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। এতে ইরানে অর্থনৈতিক সংকট আরও বেড়েছে। অর্থনৈতিক সংকট ও কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ইরানে একাধিকবার বিক্ষোভও হয়েছে।

খামেনির ক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই নিরাপত্তা কাঠামোর আনুগত্য তার অবস্থানকে দৃঢ় করে রেখেছে।

খামেনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থাও এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টার কোনো অকাট্য প্রমাণ পায়নি। তবে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন দাবি করে আসছে।

খামেনি এখন কোথায়
বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হামলার পর খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

কেন তিনি সম্ভাব্য টার্গেট
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা অতীতে খামেনিকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান হতে পারে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছিলেন, ‘খামেনি এভাবে টিকে থাকতে পারেন না।’ তার ভাষায়, ‘খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইসরায়েল ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন- তার অস্তিত্ব অব্যাহত থাকতে পারে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার খামেনিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ চাইলে সরকার পরিবর্তন সম্ভব এবং সেটিই ‘সেরা পরিণতি’ হতে পারে। অতীতে তিনি খামেনিকে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা। কৌশলগতভাবে শীর্ষ নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্ন বা অকার্যকর করা গেলে রাষ্ট্রযন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে—এমন ধারণা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

পারমাণবিক ইস্যুতে টানাপোড়েন
খামেনি বরাবরই বলে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্যে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে নেই। তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে অস্ত্র সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক হামলার ফলে পারমাণবিক আলোচনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে ইরানের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর। তবে স্পষ্ট যে, খামেনিকে ঘিরে উত্তেজনা এখন আঞ্চলিক রাজনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম