শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র কোথায় সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র কোথায় সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের খুবই কাছের এলাকাগুলোতে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে। এসব স্থান থেকে ইরানে চূড়ান্ত হামলা করা হবে কি না- ট্রাম্প বর্তমানে সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবছেন।

শক্তি বাড়ানোর জন্য মোতায়েন করা জাহাজগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায় ‘আরমান্ডা’ নামে পরিচিত। এই নৌবহরে আছে বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকন। সঙ্গে আছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত তিনটি যুদ্ধজাহাজ। জাহাজগুলো গত বছরের জুনে ইরানের দুটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় অংশ নিয়েছিল। এছাড়া, এই যুদ্ধজাহাজগুলোতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আছে।

আব্রাহাম লিংকনে থাকা অত্যন্ত গোপনীয় ও শক্তিশালী এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার এবং এফ/এ-১৮ অ্যাটাক প্লেনগুলো ইরানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। হামলার সক্ষমতা আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি এই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে আছে, মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে উন্নত রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। সঙ্গে আছে তিনটি ডেস্ট্রয়ার।

জাহাজ ও উড্ডয়ন ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বুধবার এই নৌবহরটি জিব্রাল্টার প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানে ফোর্ড-এর যুদ্ধবিমানগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল।

নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরও একটি ডেস্ট্রয়ার উত্তর আরব সাগরে পাঠানো হয়েছে। অন্য একটি যাত্রাপথে। এর ফলে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েনকৃত মোট মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে।

পূর্ব জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান শক্তির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে অন্তত দুটি ধাপে সেখানে আক্রমণকারী যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। এর ফলে বর্তমানে ঘাঁটিতে এসব বিমানের সংখ্যা প্রায় ৩০টিতে দাঁড়িয়েছে।

আক্রমণকারী যুদ্ধবিমান ছাড়াও, জানুয়ারির শেষ দিকে জর্ডানে চারটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার জেট পৌঁছায়। এগুলো শত্রুপক্ষের রাডার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা জ্যাম করতে সক্ষম। গত ৩০ জানুয়ারির একটি স্যাটেলাইট চিত্রে এই ঘাঁটিতে অন্তত পাঁচটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন দেখা গেছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং স্যাটেলাইট ছবি থেকে আরও জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহকারী এবং অত্যাধুনিক সেন্সর ও ক্যামেরা সম্বলিত গোয়েন্দা বিমানও মোতায়েন করছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত এই বাহিনীকে রসদ জোগাতে সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন ঘাঁটিতে কয়েক ডজন ট্যাঙ্কার ও কার্গো বিমান স্থানান্তর করা হয়েছে।

ইরানের স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে মার্কিন সেনাদের রক্ষা করতে পেন্টাগন এই অঞ্চলে আরও প্যাট্রিয়ট এবং থাড বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দূরপাল্লার বোমারু বিমানগুলোকেও (সরাসরি ইরানে হামলা চালাতে সক্ষম) উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। জানুয়ারিতে ট্রাম্প যখন ইরানের শাসকদের উদ্দেশে হুমকি দিয়েছিলেন, তখন থেকেই পেন্টাগন এসব এসব বোমারু বিমানের জন্য প্রস্তুতির সতর্কতা জারি করে।

এরপর থেকেই ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটিতে বিশেষ অভিযান, নজরদারি ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পাঠানো হয়। দিয়েগো গার্সিয়া বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমানের অগ্রবর্তী মোতায়েন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম