শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নাইজেরিয়ায় আইএসের স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৪৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নাইজেরিয়ায় আইএসের স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আইএস লক্ষ্যে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নাইজেরিয়া সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতায় সোকোতো রাজ্যে এসব হামলা হয়। সিরিয়ায় আইএসের অনেক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার এক সপ্তাহের মধ্যে আফ্রিকার দেশটিতে এ ঘটনা ঘটল।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আইএস নিরীহ খ্রিষ্টানদের টার্গেট করে নৃশংসভাবে হত্যা করছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নাইজেরিয়া সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতায় এ হামলা হয়েছে। নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ মাইতামা তুগ্গার পৃথকভাবে বিবিসিকে বলেন, এটি ছিল একটি ‘যৌথ অভিযান’। ভবিষ্যতে আরও হামলার সম্ভাবনা নাকচ করেননি তুগ্গার। তিনি বলেন, ‘এটি নির্ভর করবে দুই দেশের নেতৃত্বের নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর।’ গত নভেম্বরে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের মোকাবিলায় নাইজেরিয়ায় অভিযানের প্রস্তুতি নিতে মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

নাইজার সীমান্তের কাছে সোকোটো শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে জাবো এলাকায় হামলাটি হয়। বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের এলাকায় শোনা যায়। জাবোর বাসিন্দা হারুনা কাল্লাহ এএফপিকে বলেন, ‘এ আক্রমণ আমাদের হতবাক করেছে।’

সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন গোষ্ঠী বলছে, নাইজেরিয়ায় মুসলিমদের তুলনায় খ্রিষ্টানরা বেশি হত্যার শিকার হচ্ছেন– এমন কোনো প্রমাণ নেই। মোটামুটি সমান সংখ্যক মুসলমান ও খ্রিষ্টান দেশটিতে থাকেন। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবুর এক উপদেষ্টা বিবিসিকে বলেন, জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ যৌথভাবেই নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, জিহাদিরা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে না। তারা সব ধর্মের মানুষদের হত্যা করেছে।

এর আগে ট্রাম্প জানান, খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর ওপর ‘অস্তিত্বগত হুমকি’র কারণে তিনি নাইজেরিয়াকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ বলে ঘোষণা করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এমন এক স্বীকৃতি, যার আওতায় ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘনে জড়িত’ দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে।

বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট গত এক দশকেরও বেশি সময়ে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক সহিংসতা বিশ্লেষণকারী সংস্থা অ্যাকলেডের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের অধিকাংশই মুসলমান। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, খ্রিষ্টানদের বেশি টার্গেট করা হয়েছে– এমন কোনো প্রমাণ নেই। গতকাল শুক্রবার রয়টার্স লিখেছে, নাইজেরিয়ার জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিমরা মূলত উত্তরে বসবাস করে। দক্ষিণে খ্রিষ্টানের সংখ্যা বেশি। পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বে একটি মসজিদে বোমা হামলায় কমপক্ষে ৫ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন।
এর আগে গত সপ্তাহে সিরিয়ায় আইএসের লক্ষ্যে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

Facebook Comments Box
বিষয় :
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম