শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘাত তীব্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৮০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘাত তীব্র

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে শুক্রবার রাতে চার ঘণ্টা ধরে গোলাবিনিময় হয়েছে। উভয়পক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ জন্য একে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। এই ঘটনা কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে সীমান্ত সংঘাত শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষই ভারী এবং হালকা অস্ত্র ব্যবহার করে। সংঘর্ষের সময় সীমান্তে আফগানিস্তান অংশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের তোলা ভিডিওতে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক আফগান হেঁটে ও যানবাহনে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যাচ্ছে।

কান্দাহারের তথ্য বিভাগের প্রধান আলি মোহাম্মদ হাকমাল জানান, পাকিস্তানের বাহিনী হালকা ও ভারী কামান দিয়ে আক্রমণ করেছে। মর্টারের আঘাতে বেসামরিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি তালেবানের বিরুদ্ধে উস্কানিবিহীন গোলাবর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী এর জবাব দিয়েছে। পাকিস্তান তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অন্যদিকে, তালেবানের একজন মুখপাত্র দাবি করেন, পাকিস্তান আবারও আক্রমণ শুরু করেছে। তাই তালেবান জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।
এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে ঘটল যখন দুই মাস আগে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছিল। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর এটি ছিল উভয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত।

আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পাকিস্তানের তালেবান (টিটিপি) পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর কমপক্ষে ৬০০টি হামলা চালিয়েছে।

গত সপ্তাহেও দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য প্রতিনিধিরা সৌদি আরবে মিলিত হন। যদিও কোনো চুক্তি হয়নি। তবে তারা যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছিলেন। নতুন সংঘর্ষ সেই প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলবে।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় ৯ সন্ত্রাসী নিহত
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) শনিবার জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার টাঙ্ক এবং লাক্কি মারওয়াত জেলায় পৃথক গোয়েন্দা অভিযানে ৯ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। খবর ডনের

সামরিক গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, নিহত ৯ জনই টিটিপির সদস্য ছিল। ট্যাঙ্কের অভিযানে সাতজন এবং লাক্কি মারওয়াতে দুজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও নিরীহ নাগরিকদের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশ থেকে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী নির্মূলের জন্য এই অভিযান চলবে।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এই সফল অভিযানের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতি নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে আছে। দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি খাইবার পাখতুনখোয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম