আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ১২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে খুব শিগগিরই নতুন ধরনের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটা জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের চারজন কর্মকর্তা। নিকোলাস মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে তারা পরবর্তী ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে এই অভিযান কখন, কেমন পরিসরে শুরু হতে পারে- সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারেনি রয়টার্স। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত কোনো অনুমোদন দিয়েছেন কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য মার্কিন অভিযান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হচ্ছিল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। যা দুই দেশের ক্রমশ খারাপ হতে থাকা সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় রয়টার্সের কাছে ওই চার মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তাদের মধ্যে দুজন জানান, মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে আসন্ন পদক্ষেপের প্রথম ধাপ হতে পারে গোপন অভিযান। তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পেন্টাগন বিষয়টি হোয়াইট হাউসের দিকে ঠেলে দেয়। আর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এদিকে সামরিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে আকাশপথে ‘বিপজ্জনক পরিস্থিতির’ আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার একটি সতর্কতা জারি করে মার্কিন এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। এরপর ভেনেজুয়েলায় ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে ছয়টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস। এএফপির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, ফ্লাইট বাতিল করা কোম্পানিগুলো হলো- ইবেরিয়া (স্পেন), টিএপি (পর্তুগাল), লাতাম (চিলি), অ্যাভিয়ানকা (কলম্বিয়া), গোল (ব্রাজিল) ও ক্যারিবিয়ান এয়ারলাইনস (ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো)।
পর্তুগালের টিএপি রয়টার্সকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সতর্কতা জারির পর তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সতর্কবার্তায় বলেছে, ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে তাঁদের পরিকল্পনার পেছনে যুক্তি হিসেবে অবৈধ মাদক সরবরাহ চক্রের কথা তুলে ধরছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে নিকোলাস মাদুরোর ভূমিকা আছে। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কোনোভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত না।
রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেসব বিকল্প পরিকল্পনা করছে, তার মধ্যে মাদুরো সরকারকে উত্খাত চেষ্টার মতো পদক্ষেপও আছে।
মাদুরো ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন। তিনি বিভিন্ন সময় অভিযোগ তুলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে সরাতে চান। বাস্তবে এমন কোনো প্রচেষ্টা হলে ভেনেজুয়েলার জনগণ ও সামরিক বাহিনী একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
মানুষের চিন্তায় খাবার
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকিতে যখন নিকোলাস মাদুরোর সরকার টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তখন ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের চিন্তা একেবারেই ভিন্ন।
স্থানীয় সময় গত বুধবার সকালে কারাকাসের একটি ব্যস্ত বাজার ঘুরে দেখেন বিবিসির সাংবাদিক। সেখানে মানুষের সঙ্গে আলাপের সময় যুদ্ধের আশঙ্কা বা সংঘাতের সম্ভাব্য উত্তাপ তেমন একটা দেখা যায়নি। বরং মানুষ নিত্যপণ্য কম কিনছেন। বিক্রেতারাও কাঙ্ক্ষিত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় হতাশ।
কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে আলেহান্দ্রো ওরেয়ানো নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আসল সমস্যা হলো ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া। অনেকদিন ধরে বাজারে ক্রেতার তেমন সমাগম দেখা যাচ্ছে না।’
এই বাজারে আসা মানুষের সঙ্গে আলাপ করে একটি সাধারণ ‘শত্রু’র কথা জানা যায়। সেটি হলো নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম। অনেক পণ্য মানুষের ক্রমক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে বাজারে ঢুকলেও ক্রেতাদের চিন্তা করতে হচ্ছে, কোন পণ্য কিনবেন আর কোনটা কিনবেন না।