আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৬২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দিচ্ছে সিরিয়া। যেটিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। বৈঠক শেষে জোটে যোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়। কিছুদিন আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকায় ছিলেন শারা। সোমবার তিনি প্রথম সিরীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফর করলেন।
ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-শারা বলেন, এই সফর নতুন যুগের সূচনা। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবে তাঁর দেশ। ডোনাল্ড ট্রাম্পও শারার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইএস বিরোধী বৈশ্বিক জোটের ৯০তম সদস্য হতে যাচ্ছে সিরিয়া। এই জোটের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করা।
দুই নেতার বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র দফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দ্রুতই সিরিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেবে। পাশাপাশি, দেশটিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি দিক নির্দেশনা তৈরি করা হবে।
নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন সিরিয়ার ওপর থেকে ‘সিজার আইন’ ১৮০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে। ২০১৯ সালে চালু হওয়া এই আইনের আওতায় সিরিয়ার সাবেক সরকারের ওপর কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছিল। সোমবারের বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা চাই সিরিয়া একটি সফল দেশের উদাহরণ হয়ে উঠুক। আমার বিশ্বাস শারা সেটি করতে পারবেন।
২০১২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র-সিরিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত ছিল। তবে এবার ওয়াশিংটনে সিরিয়াকে ফের দূতাবাস চালুর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।