শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সংঘাতে নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির বার্তা, সামনে বন্ধুর পথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৪৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সংঘাতে নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির বার্তা, সামনে বন্ধুর পথ

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ১০ দিন পার হয়েছে। এ সময়ে স্বস্তির বার্তা মিললেও স্পষ্ট হয়েছে যুদ্ধবিরতির দুর্বলতা। সেই সঙ্গে এটি টিকিয়ে রাখতে বাইরের হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তাও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। গত রোববার নতুন করে সহিংসতা দেখা দেয়। ইসরায়েলের একনাগাড়ে চালানো বিমান হামলায় অনেক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে গাজায় একটি বৃহত্তর চুক্তির পথ কতটা কঠিন হবে, তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কারণ, দুই পক্ষ বার বার একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও হামলা চালানোর অভিযোগ বেশ পুরোনো। তারা লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করলেও প্রায়ই দেশটিতে হামলা চালায়।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বা আইডিএফের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, হামাস আইডিএফের একটি গাড়িতে ট্যাঙ্কবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত ও একজন আহত হন। যুদ্ধবিরতি রেখার পূর্ব দিকে দক্ষিণ গাজার রাফায় এ হামলা হয়। ইসরায়েল এটিকে চুক্তির শর্তাবলির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে। তবে হামাস কর্মকর্তারা দ্রুত এ হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। ইসরায়েল পাল্টা হামলা শুরু করে। তারা গাজার বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালায়।
এ অবস্থায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের একজন অতি-ডানপন্থি সদস্য বেজালেল স্মোট্রিচ হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক অভিযান অবিলম্বে আবার শুরুর দাবি জানিয়েছেন। এক শব্দের পোস্টে সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেন–‘যুদ্ধ’!

যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত রোববার রাতে সাংবাদিকদের জানান, তিনিও আগামীতে ইসরায়েলেও যেতে পারেন। ভ্যান্সের এ সফর সম্পর্কে ইসরায়েলের বিশ্লেষক শিরা এফ্রন বলেন, তিনি হামাসের ওপর ইসরায়েলের হামলার যৌথ নির্দেশ দিতে আসছেন না।

নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত রোববারের সহিংসতা ছিল গাজায় ইসরায়েলি হামলার সবচেয়ে ভারী ঢেউ। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গত সপ্তাহে জানায়, তারা উত্তর গাজায় একটি গাড়িতে গুলি চালিয়েছে। গাজার কর্মকর্তারা জানান, এ হামলায় শিশুসহ ৯ জন নিহত হন।

রাফাহ হামলার কথা অস্বীকারের পর হামাসের সামরিক শাখা যুদ্ধবিরতি কার্যকরে তাদের ‘পূর্ণ প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা জানিয়েছে, গত মার্চ থেকে রাফায় যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নেই। তাদের কেউ এখনও বেঁচে আছেন কিনা তাও তারা জানেন না।
আতঙ্কের পরিবেশ

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের হামলা নতুন করে গাজায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। হতাহতদের দ্রুত আল-আকসা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে লোকজন ভিড় জমায়। নিহত এক ফিলিস্তিনির ভাই সালিহ সালমান রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা একটি ক্যাফেটারিয়ায় বসে চা-কফি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ শুনতে পাই–তাদের ওপর বোমা হামলা হয়েছে এবং সবাই নিহত হয়েছেন।’

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যে গতকাল সোমবার সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা করা যুদ্ধবিরতি তার প্রথম পরীক্ষায় টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। আইডিএফ এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করার বিষয়ে অঙ্গীকার পূনর্ব্যক্ত করে। অপরদিকে হামাস ও তাদের সশস্ত্র শাখা কাশেম ব্রিগেড বলছে, তারাও যুদ্ধবিরতি বহাল রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম