আন্তর্জাতিক ডেস্ক | শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৬২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার প্রথম টিভি বিতর্কে অংশ নেন প্রার্থীরা। এদিন ‘চরম উত্তেজনাপূর্ণ’ বিতর্কে একে অন্যের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছেন তারা। নির্বাচনের আর মাত্র ১৯ দিন বাকি থাকায় জমে উঠেছে বিতর্কের আমেজ।
আগামী ৪ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে টেলিভিশনে সরাসরি দুটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি, স্বতন্ত্র প্রার্থী নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো এবং রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়া ভোটারদের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। মেয়র নির্বাচনের আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হবে ২৫ অক্টোবর থেকে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম আইউইটনেস নিউজ জানায়, সাবেক গভর্নর কুওমোর জন্য এ মঞ্চ ছিল শেষ সময়ে সমর্থক বাড়ানোর অন্যতম সুযোগ। মেয়র দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও মামদানিকে মঞ্চে বেগ পেতে হয় কুওমোর কথার দাপটে। অন্যদিকে স্লিওয়ার আশা, মামদানি ও কুওমো ডেমোক্রেটিক পার্টির ভোট ভাগাভাগি করবেন। তাই রিপাবলিকান ও মধ্যপন্থিদের সমর্থন নিয়ে এগিয়ে থাকবেন তিনি।
বিতর্কে জোহরান প্রতিদ্বন্দ্বী কুওমোর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন কেলেঙ্কারি এবং কভিড মহামারির সময় ‘নার্সিং হোমে বয়স্কদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার’ মতো বিতর্কিত প্রশাসনিক রেকর্ড নিয়ে কড়া আক্রমণ করেন। স্লিওয়া তাঁর দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ভালো যে আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। কারণ, এই শহরে অপরাধের সংকট তারাই সৃষ্টি করেছেন।’
জোহরান মামদানির উত্থানের পেছনের গল্প তুলে ধরলো নিউইয়র্ক টাইমস
নিউইয়র্ক শহরের মেয়র প্রার্থী ৩৩ বছর বয়সী জোহরান মামদানিকে দুঃসাহসী ও এখনও পর্যন্ত ‘অপ্রতিরোধ্য’ বলে মন্তব্য করেছে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। ১৪ অক্টোবর দৈনিকটির প্রতিবেদনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনীত এই প্রার্থীর উত্থানের পেছনের গল্প তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোহরান মামদানি নীরবে-নিভৃতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে যাচ্ছেন। যাতে তাদের ভোট তাঁর বাক্সে পড়ে। যাতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা পিছিয়ে পড়েন। এগুলোর কিছু কিছু সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বেশির ভাগ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। মামদানি কীভাবে নিজ দলের জন্য আশার পাশাপাশি নিরাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, সে কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে তিনি নিউইয়র্ক শহরের সাবেক কর্মকর্তা ও প্রখ্যাত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বৈঠক করে যাচ্ছেন। শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রধানদের সঙ্গে দেখা করছেন। এমনকি, হতাশ স্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতাকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছেন তিনি।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে কুইননিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। ৩ থেকে ৭ অক্টোবর পরিচালিত সেই জরিপে জোহরান মামদানির পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৬ শতাংশ ভোটার, অ্যান্ড্রু কুওমোর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ শতাংশ ও কার্টিস স্লিওয়ার পক্ষে ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া ৫ শতাংশ বলেছেন, তারা এখনও ঠিক করেননি ও ১ শতাংশ বলেছেন যে কোনো একজন প্রার্থীকে তারা ভোট দেবেন।