আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৫৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ভূরাজনৈতিক কূটনীতিতে কখন কোন দেশ কী কারণে কার বন্ধুতে পরিণত হয়; আবার মুহূর্তেই সম্পর্ক বদলে যায় শত্রুতায়– ঘটনার পরম্পরায় তা অনুমান করা এখন কঠিন কিছু নয়। তার পরও দীর্ঘদিন একটি দেশের নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠনের প্রতি থাকা দৃষ্টিভঙ্গি শুধু কৌশলগত কারণে যখন পরিবর্তন হয়, তখন স্বাভাবিক কারণেই তার কাছে কৌতূহলের সৃষ্টি করে। যেমন সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় কৌশলগত কারণেই আফগানিস্তানের অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
সেই যুদ্ধ শেষে যখন ওই বিদ্রোহীরা মিলেই আল কায়দার মতো চরমপন্থি সংগঠন গঠন করল, তখন সেটি হয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য। দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্পর্কের এমন কৌশলগত পরিবর্তনের সর্বশেষ উদাহরণ ভারত ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে সম্পর্ক। যে ভারত এক সময় তালেবানদের চরমপন্থি আখ্যা দিয়ে কালো তালিকাভুক্ত করে রেখেছিল, হঠাৎ তাদের মধ্যে এত দহরম-মহরম সংগত কারণেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। দেশের সুশীল সমাজের তুমুল সমালোচনা উপেক্ষা করে নয়াদিল্লির হঠাৎ এই তালেবানপ্রীতি কতটা রাজনৈতিক এবং কৌশলগত, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলছে বিশ্লেষণ।
মঙ্গলবার আলজাজিরায় এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের মানবাধিকার কর্মী ও মুক্ত সাংবাদিক যশরাজ শর্মা। তিনি লেখেন, ভারত কখনোই তালেবানের সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিল না, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস দিল্লিকে সম্পর্কের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এখন তালেবান প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও আতিথেয়তা দিচ্ছে। অথচ এই মুত্তাকি এখনও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তালেবানের সঙ্গে ভারতের এই সম্পর্ক পুনঃস্থাপন বাস্তববাদী নীতির অংশ। কারণ নয়াদিল্লি আফগানিস্তানে পাকিস্তানের প্রভাব মোকাবিলা করতে চাইছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের চিরবৈরী দেশ পাকিস্তানের সম্পর্ক সীমান্তপারের হামলার কারণে খারাপ হয়েছে। মুত্তাকিকে ভারতের এই আতিথেয়তা আসলে এখন তালেবান প্রশাসনকে বৈধতা এবং কার্যত স্বীকৃতি দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে আফগান তালেবান প্রশাসন যেমন তাদের কূটনৈতিক বৈধতা বাড়ানোর পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে, তেমনি অর্থনৈতিক সম্পর্কও সুসংহত করছে।
অন্যদিকে ভারত তালেবানকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি প্রক্সি হিসেবে দেখে আসছে। এখন ভারত তালেবানকে সমর্থন দিচ্ছে মূলত পাকিস্তানের প্রভাব মোকাবিলা এবং তার আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষা করতে। সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টালের নির্বাহী পরিচালক আজাই সাহনি বলেন, ভারতের কাছে এটা স্পষ্ট যে, তালেবান শাসন শিগগিরই চলে যাচ্ছে না। তাদের শাসন আমাদের পছন্দ নয় বলে আপনি সহজে দূরে সরে যেতে পারবেন না। আপনাকে অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিশীলতার বাস্তবতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। এই পরিস্থিতি ভারতের পক্ষ থেকে বৃহত্তর সখ্য দাবি করে।
মোদি সরকারের তোষামোদ দেখে লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে: জাভেদ আখতার
ভারত আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতার। নিজের এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, লজ্জায় তাঁর মাথা কাটা যাচ্ছে।
জাভেদ লেখেন, পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে নিয়ে ভারত সরকার যে আদিখ্যেতা দেখিয়েছে, তাতে লজ্জায় আমার মাথা হেট হয়ে গেছে। ওই বাড়াবাড়ি করেছে সেই সরকার (ভারত), যারা সব ধরনের মঞ্চ থেকে সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করে চলেছে।