আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ১১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর কন্যা দিনা ইউনূস। শনিবার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এ খবর জানায়। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়া অধ্যাপক ইউনূস।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূস ও তাঁর কন্যার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ছবি তোলেন। ছবিটি পরে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রতি বিশ্বনেতাদের পূর্ণ সমর্থন
অধ্যাপক ইউনূস ও তাঁর অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জানাতে শুক্রবার নিউইয়র্কে তাঁর হোটেল সুইটে একত্র হন বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা। তারা বাংলাদেশকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সহযোগিতা ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিজামি গঞ্জাভি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের (এনজিআইসি) সহসভাপতি ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবারগার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
উচ্চ পর্যায়ের এই দলে ছিলেন– স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরুত পাহোর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরিস তাদিচ, লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেভনেলিভ ও পেতার স্তোইয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো জোসিপোভিচ, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্লাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম।
জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভিয়ার জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান শীঘ্রই বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করবে।
সম্মেলনে এভাবে অপ্রত্যাশিত সমর্থন পেয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহী ভুটান
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে সংস্থাটির সদরদপ্তরে শুক্রবার অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন তোবগে। তিনি জানান, ভুটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গেলেপু মাইন্ডফুলনেস সিটিকে (জিএমসি) কুড়িগ্রামে ভুটানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে উভয় দেশ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান অধ্যাপক ইউনূস।
রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বার্তা
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছয় রাজনৈতিক নেতার উপস্থিতি বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত।
গত শুক্রবার নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘ ভাষণের সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াত নেতা ড. নকিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও প্রথম সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
‘নেতানিয়াহুর ভাষণের পর প্রবেশ করে বাংলাদেশ’
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দেওয়ার পর বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার। গতকাল ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, সামাজিক মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল– এমন প্রচারণা পতিত শক্তির অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়। মিথ্যাই এখন তাদের একমাত্র অবলম্বন।
ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ৫০টির বেশি দেশের শতাধিক কূটনীতিক হল থেকে বেরিয়ে যান। কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের জন্য সংরক্ষিত চেয়ারগুলোও ফাঁকা।