আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ১২৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত রোববার দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন সুশীলা কারকি। তিনি দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি ছিলেন। এবার দেশটিরও প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন।
কে পি শর্মা অলি গত সপ্তাহে পদত্যাগের পর বিক্ষোভকারী তরুণরা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের কাজ শুরু করে। তারা ডিসকর্ড নামে একটি অ্যাপে ভোটের মাধ্যমে সুশীলা কারকিকে বেছে নেয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে ডিসকর্ডের ১ লাখ ৪৫ হাজার সদস্যের একটি গ্রুপে বিতর্ক হয়। এই গ্রুপের সদস্যরা বিক্ষোভে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। গ্রুপে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীদের নিয়ে একাধিক ভোটাভুটি হয়। এতে সুশীলা কারকির পক্ষে সমর্থন দেন বেশিরভাগ সদস্য। এই গ্রুপের সদস্যরা তখন বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের জন্য ডিসকর্ডই যেন পার্লামেন্টে পরিণত হয়েছিল।
ভোটাভুটির আয়োজন করেছিল হামি নেপাল নামের একটি নাগরিক সংগঠন। যদিও দায়িত্ব নেওয়ার দিনই সুশীলা কারকির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন হামি নেপাল গ্রুপের সদস্যরা।
কেন কারকি
গত সপ্তাহে নেপালে আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীরা যুব সমাজের সঙ্গে ক্ষমতায় থাকা নেতাদের প্রজন্মের ফারাক তুলে ধরেন। কিন্তু আন্দোলন শেষে ৭৩ বছর বয়সী কে পি শর্মার জায়গায় তারা বেছে নেন ৭০ বছরের বেশি বয়সী সুশীলাকে।
দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের সাংবাদিক অনিশ ঘিমরে আল জাজিরাকে বলেছেন, বড় বিষয় হলো মানুষ আসলে এমন কাউকে চেয়েছে যাকে বিশ্বাস করা যায়, অনুসরণ করা যায়।
অনিশ ঘিমরে নিজেও জেন-জি প্রজন্মের। ২৪ বছর বয়সী এই সাংবাদিক বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে মূল প্রেরণা ছিল কারকির অতীত কর্মকাণ্ড ও ক্যারিয়ার নিয়ে গবেষণা। তাঁর একটি সাক্ষাৎকার তরুণদের আকৃষ্ট করে। ওই সাক্ষাৎকারে কারকি বলেছিলেন, সুবিধা পেতে অনেক মন্ত্রী তাঁর কাছে যেতেন। কিন্তু তিনি তাদের সুবিধা দেননি।
নেপালে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে আগামী বছরের মার্চে। অনিশ ঘিমরে বলেন, আশা করা হচ্ছে ছয় মাস পর প্রধানমন্ত্রীর পদে নতুন মুখ দেখা যাবে। যিনি বয়সে তরুণ হবেন।
কেউ কেউ বলছেন, কারকিকে বেছে নেওয়ার পেছনে তাঁর বয় নয়, খ্যাতি কাজ করেছে। পোখারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক যোগ রাজ লামিচানে আল জাজিরাকে বলেন, সুশীলা কারকি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি আছে। এ কারণে জেন-জিরা তাঁকে সৎ হিসেবে জানে।
কে এই সুশীলা কারকি
নেপালের পূর্বাঞ্চলের বীরাটনগরে ১৯৫২ সালের জুনে জন্মগ্রহণ করেন সুশীলা কারকি। বীরাটনগর রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণে। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, কারকি ১৯৭৮ সালে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং পরে একজন আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৬ সালে তিনি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হন।
২০১৭ সালে সংসদ সদস্যরা সুশীলার বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন। ওই বছরের মে মাসে সরকার তাঁকে সাময়িকভাবে পদচ্যুত করার চেষ্টা করে। সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে বলা হয়েছিল, সুশীলার নেতৃত্বাধীন আদালত পুলিশ প্রধান হিসেবে জয়া বাহাদুর চাঁদের নিয়োগ বাতিল করেছেন। চাঁদের জায়গায় পরে আদালত নাওরাজ সিলওয়াল নামে একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন।
সুশীলাকে অপসারণের এই চেষ্টাকে তখন জাতিসংঘ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে। পরে সরকার অপসারণ প্রক্রিয়া বাতিল করে। ওই বছরের জুনে অবসরগ্রহণ করেন সুশীলা।
এ পর্যন্ত কী করেছেন সুশীলা
গত রোববার দায়িত্ব গ্রহণের দিনই সুশীলা কারকি বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হবে জেন-জিদের চিন্তাভাবনা অনুসারে।’ তিনি জানান, পরিস্থিতি যেমনই হোক অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাসের বেশি থাকবে না।
গত সোমবার সুশীলা কারকি তিনজন নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেন। তারা হলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওম প্রকাশ আর্যল, অর্থমন্ত্রী রমেশ্বর প্রসাদ খনাল ও জ্বালানিমন্ত্রী কুলমান ঘিসিং।
এর আগের রাতে (রোববার) সুশীলার বাসভবনের নামে বিক্ষোভ করে হামি নেপাল গ্রুপ। সদস্যরা বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই গুরুত্বপূর্ণ তিনজন মন্ত্রীকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
নেপালে কী হতে যাচ্ছে
সংসদ ভেঙে দেওয়ায় সুশীলা কার্কি নতুন কোনো আইন পাস করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। পোখারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক যোগ রাজ লামিচানে আল জাজিরাকে বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর সংসদও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো বাস্তব কর্মসূচি এখনো শুরু হয়নি। এটি জেন-জিদের একটি উদ্বেগের বিষয়।
যোগ রাজ লামিচানে আরও বলেন, এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো সময়মতো নির্বাচন আয়োজন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।