শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

আলাস্কায় ‘দুই মিনিটে’ কে কার মন নিয়ে খেলবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ১১৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আলাস্কায় ‘দুই মিনিটে’ কে কার মন নিয়ে খেলবে

আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় হতে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের বহুল আলোচিত বৈঠক। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কোন দিকে যাবে তা এই বৈঠক থেকে বোঝা যাবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। আর ট্রাম্প বলছেন, পুতিনের মন বুঝে তিনি এই গতিপথ নির্ধারণ করতে চান মাত্র দুই মিনিটে।

অপরদিকে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার ভিত্তিতে ইউক্রেন ও ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানের কিছু নেতার শঙ্কা, পুতিনও চেষ্টা করবেন আলোচনা লম্বা করে ট্রাম্পকে নিজের দিকে টেনে আনার। বিশেষ করে পুতিন যেসব শর্ত বজায় রেখে যুদ্ধে জয়ী হতে চান, সেগুলোতে রাজি হতে কোনো না কোনোভাবে তিনি ট্রাম্পের মন ভোলাতে চান।

ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক এমন একটি স্থানে (আলাস্কা) হতে যাচ্ছে যেটি ১৮৬৭ সালে ৭২ লাখ মার্কিন ডলারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে রাশিয়া। ট্রাম্প বলেছেন, এমন একটি স্থানেই তিনি রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ‘ভূমি বিনিময়’ নিয়ে আলোচনা করতে চান।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, পুতিনের পরিকল্পনা বুঝতেই তিনি আলাস্কায় যাচ্ছেন। বৈঠক শুরুর প্রথম দুই মিনিটেই তিনি পুতিনের মতিগতি বুঝতে চান। তাতে যদি মনে হয় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই তাহলে তিনি আলোচনা ভেস্তে দিতেও প্রস্তুত আছেন। হয়তো বৈঠক থেকে উঠে চলে যাবেন। এরপর তারা (রাশিয়া-ইউক্রেন) যত পারে লড়াই চালিয়ে যাবে।

ট্রাম্প-পুতিনের আসন্ন বৈঠককে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে স্পর্শকাতর আলোচনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই বৈঠকের ফলাফল কেমন হবে সেটির দিকে তাকিয়ে আছে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্ররা। যদিও তারা অঙ্গীকার করেছে, আলোচনার ফল যাই হোক- তারা ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখবে। ঠিক এ প্রসঙ্গেই গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশল স্পষ্ট করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফক্স নিউজকে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়ন এখানেই শেষ করছি। এখন আমেরিকান অস্ত্র ইউক্রেনের হাতে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হবে যদি ইউরোপীয় মিত্ররা সেগুলো কিনে হস্তান্তর করে।’

আলাস্কার বৈঠকে ইউক্রেন নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও সেখানে এখনো আমন্ত্রণ পাননি ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে বৈঠকের খবরের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলছেন, যেকোনো চুক্তি অবশ্যই কোনো না কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে শুরু হতে হবে। যাতে আলোচনার সময় বিমান হামলা ও ভূমি দখল না চলে।

কিন্তু সোমবার ঘণ্টাব্যাপী সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প পুতিনের মতিগতি বোঝার ব্যাপারে একাধিকবার কথা বললেও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে কিছু বলেননি। ইউক্রেন ভূখণ্ড রক্ষায় এবং ভবিষ্যতে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য ও সহযোগিতা পাবে- এমন কোনো বিষয়েও ট্রাম্প মন্তব্য করেননি।

পুতিনের কৌশল
আসন্ন বৈঠকটি বেশ তাড়াহুড়ো করে আয়োজন করতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস। সাধারণত এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের আগে- প্রাথমিক আলোচনা, আগের চুক্তি পর্যালোচনা, যৌথ বিবৃতি কেমন হতে পারে তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে হোয়াইট হাউস। কিন্তু ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি এবার এসব ছাড়াই আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। তাড়াহুড়োর আরেকটি ইঙ্গিত হলো- হোয়াইট হাউস এখনো জানায়নি বৈঠকটি আলাস্কার ঠিক কোথায় হবে, কতক্ষণ চলবে।

এমন অবস্থাকেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্ররা। কেউ কেউ স্বীকার করেছেন, বৈঠকে ট্রাম্পের প্রশংসা করে পুতিন হয়তো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। সময়ক্ষেপণ করে ট্রাম্পকে নিজের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করবেন। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও এই আশঙ্কা তৈরি করেছে। যেমন, চলতি বছরই ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন নিজেই তাদের ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য দায়ী। এ ছাড়া, রুশ আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবেও ট্রাম্প ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এসব দিকের প্রতি ইঙ্গিত করে ভলোদিমির জেলেনস্কিও বলেছেন, ট্রাম্প এমন এক ব্যক্তি যাকে সহজেই ‘প্রতারিত’ করা যায়।

সোমবার হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প যুদ্ধের অবসান, ভূখণ্ড ইস্যু, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কিছুই বলেননি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, চুক্তি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম