শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

বিমান চালিয়ে মায়ের কাছে যাওয়ার পথে আছড়ে পড়ে স্কুলে, বিশ্বে আরও যত ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৯১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিমান চালিয়ে মায়ের কাছে যাওয়ার পথে আছড়ে পড়ে স্কুলে, বিশ্বে আরও যত ঘটনা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজের আগে সম্প্রতি বড় বিমান দুর্ঘটনা ঘটে ভারতের আহমেদাবাদে। বিধ্বস্ত হয় সেটিও আছড়ে পড়ে একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে।

স্কুল ভবনের ওপর বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের ডেটাবেস ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ঘেঁটে এমন পাঁচটি ঘটনার কথা জানা গেছে। যেগুলোতে প্রাণ হারিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।

কাসালেক্কিও দি রেনো, ইতালি
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ইতালির শহরতলি কাসালেক্কিও দি রেনোতে একটি সামরিক জেট বিধ্বস্ত হয়ে স্থানীয় স্কুল ভবনে আছড়ে পড়ে। এতে কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ৭০ জন আহত হন। দুইতলা লাল ইটের ভবনের ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ধোঁয়া ও আগুন থেকে বাঁচতে জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে। আহতদের অনেকেই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। দুর্ঘটনার সময় স্কুলটিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, যাদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।

দেশটির বিমানবাহিনীর তৎকালীন জেনারেল কার্লো ব্রান্ডিনির বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়, বিমানটি আকাশ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাডার কার্যকারিতা পরীক্ষা করছিল। কাজ শেষে এটির ঘাঁটিতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু মাঝপথে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

ইশিকাওয়া (উরুমা), জাপান
জাপানের ইশিকাওয়ায় (বর্তমানে উরুমা) শহরে ১৯৫৯ সালের ৩০ জুন বিধ্বস্ত হয় একটি আমেরিকান সামরিক বিমান। এটি আছড়ে পড়ে শহরটির মিয়ামোরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর। সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্বীপটি তখন যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল।

মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় বিদ্যালয়টির ১২ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ৬ বাসিন্দা প্রাণ হারান। আহত হন দুই’শর বেশি মানুষ। এই দুর্ঘটনাটি উরুমার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

আপেলডর্ন, নেদারল্যান্ডস

১৯৪৬ সালের ৭ অক্টোবর নেদারল্যান্ডসের আপেলডর্ন শহরের একটি ক্রিশ্চিয়ান হাই স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে মোট ২৩ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন পাইলট, তাঁর মা ও বিদ্যালয়টির ২১ শিক্ষার্থী।

এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের ডেটাবেসে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনার জন্য ২৩ বছর বয়সী পাইলট নিজেই দায়ী ছিলেন। ম্যাক্স ক্রিস্টার্ন নামের ওই পাইলট ভালকেনবুর্গ বিমানঘাঁটির কাছে ৩০ মিনিটের একক উড্ডয়নের অনুমতি পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নিয়ম ভেঙে জেট চালিয়ে আপেলডর্ন শহরে যান তাঁর মাকে দেখতে। অবতরণের আগে তিনি শহরের স্বল্প উচ্চতায় বিভিন্ন স্টান্ট প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

১৯৫৭ সালের ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের জন্য উড্ডয়ন করে দুটি বিমান। ফ্লাইটের উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের আবহাওয়ায় বিমানের আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা। কিন্তু মাঝ আকাশে মুখোমুখি হওয়ার এক পর্যায়ে বিমান দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর মধ্যে ‘ডগলাস ডিসি-৭’ ধরনের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একটি স্কুলের মাঠে পড়ে। এতে তিন শিক্ষার্থী ও পাঁচ বিমানকর্মী নিহত হন। আহত হয় অনেক শিক্ষার্থী।

আহমেদাবাদ, ভারত
চলতি বছরের ১২ জুন ভারতের আহমেদাবাদে বিধ্বস্ত হয় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান। এটি আছড়ে পড়ে স্থানীয় একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে। এতে প্রাণ হারান বিমানটির ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু। নিহত বাকি ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা। এ ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান বিশ্বাস কুমার রমেশ নামে ভারতীয় বংশোদ্ভুত যুক্তরাজ্যের এক নাগরিক।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম