আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪ | প্রিন্ট | ১২১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অনেকটা বাজি ধরার মতো ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন। কট্টরপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী সাঈদ জালিলির বিরুদ্ধে তিনি যে জয়ী হবেন, এমনটা হয়তো প্রত্যাশাও করেননি। কারণ, তিনি একজন ‘সংস্কারপন্থি’। কিন্তু সর্বজনীন অর্থে তিনি উদারমনা, গণতন্ত্রপ্রেমী সংস্কারপন্থি নন। ইরানে সংস্কারপন্থিরা হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শাসক গোষ্ঠীরই একটি আদর্শিক শাখা।
মঙ্গলবার বিবিসির প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, অন্য রক্ষণশীল প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো তারাও ইসলামপন্থি। তবে তারা বিশ্বাস করেন যে, শাসনের মতাদর্শের আরও মধ্যপন্থি সংস্করণ ইরানের সমাজ ও শাসক– উভয়ের জন্য ইতিবাচক।
সংস্কারপন্থিরা ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রশাসনের নেতৃত্ব দিয়েছে। তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ডি ফ্যাক্টো জোটের অংশ ছিলেন। রক্ষণশীল থেকে মধ্যপন্থি হওয়া রুহানি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এ জোট প্রায়ই একটি মুক্ত এবং অধিকতর গণতান্ত্রিক সমাজের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকের সংস্কারবাদী প্রশাসনের মতো ২০২৪ সালের নির্বাচনের সংস্কারবাদীদের নির্বাচনী প্রচারণায় একটি স্বাধীন এবং অধিকতর গণতান্ত্রিক সমাজের অঙ্গীকার ছিল না।
১৯৯০-এর দশক থেকে ইরানে ভিন্নমত ও নিপীড়নের একাধিক ঢেউ দেখা গেছে। এমনকি সংস্কারপন্থিরা নিজেরাই চাপের মুখে ছিলেন; শিকার হয়েছেন ধড়পাকড়ের। তাদের কেউ কেউ কারাবরণও করেছেন। কার্যত ইরানে যে ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে কোনো পরিবর্তন আসে না। কার্যত ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর ওপর প্রশাসনের কারও বড় ধরনের প্রভাব নেই। এর মধ্যে আছে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়, গার্ডিয়ান কাউন্সিল, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিএস) এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।
পেজেশকিয়ান যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি নেন, তখন তিনি ২০১৩ সালে হাসান রুহানির মতোই একটি কৌশল বেছে নেন। এটা হলো, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি বছরের পর বছর ধরে যে অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে, তার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা। দ্য সান অনলাইন জানায়, মাসুদ পেজেশকিয়ান আগামী ৩০ জুলাই শপথ নিতে যাচ্ছেন। গতকাল বুধবার ইরানের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য মুজতবা ইউসুফ এ ঘোষণা দিয়েছেন।