শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ঝুঁকিতে মোদির আর্থিক ও রাজনৈতিক এজেন্ডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০৬ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৯৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ঝুঁকিতে মোদির আর্থিক ও রাজনৈতিক এজেন্ডা

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জন্য একটি বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে রূপ নিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মোদি কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে চান, তার ওপর নির্বাচনের ফলাফল প্রভাব ফেলবে।

ফলাফলের আগে বুথফেরত জরিপে যেভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, মোদি সেই অনুযায়ী ভূমিধস বিজয় পাননি। উল্টো তিনি তাঁর তৃতীয় মেয়াদে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন প্রাথমিকভাবে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দুর্বল জনরায় নিয়ে। খবর এএফপির।

গতকাল বুধবার সিএনবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি কয়েক ডজন আসন হারিয়েছে। তাঁর দলের আসন সংখ্যা ২৫০-এর নিচে নেমে এসেছে। ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন হয় ২৭২ আসন। এবারের ভোটের ফলের সঙ্গে ২০১৪ ও ২০১৯ সালে বিজেপির প্রতি ভারতের জনরায়ের বড় পার্থক্য রয়েছে। ওই দুই নির্বাচনে বিজেপি একাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তাদের আসন সংখ্যা ছিল যথাক্রমে– ২৮২ ও ৩০৩।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদরদপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে মোদি নিজের নির্বাচনী জয়ের প্রসঙ্গে বলেন, ১৯৬২ সালের পর প্রথমবারের মতো একটি ক্ষমতাসীন সরকার তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি ভারতের উন্নয়নে একটি নতুন স্বর্ণযুগ হতে যাচ্ছে।’ তবে এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল মোদির জন্য জটিল পরিস্থিতি নিয়ে আসবে। তিনি তাঁর দশকব্যাপী শাসনামলে প্রথমবারের মতো জোটের অংশীদারদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হবেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দেশের জন্য তাঁর অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সম্মত না-ও হতে পারেন।

গতকাল বুধবার নয়াদিল্লির সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের জ্যেষ্ঠ ফেলো নীলাঞ্জন সরকার বলেন, আমরা একটি অজ্ঞাত বাস্তবতায় আছি। আমরা এর আগে কখনোই দেখিনি, মোদি সরকারকে জোটে কাজ করতে হচ্ছে। সিএনবিসির ‘স্কোয়াক বক্স এশিয়া’কে তিনি বলেন, ‘আপনি যখন একটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তখন দলের প্রয়োজন ও একজন নেতার প্রয়োজন সামঞ্জস্য করা সহজ হয় কি? জোটের শরিকদের সঙ্গে মোদির সম্ভবত ‘অস্বস্তিকর সম্পর্ক’ থাকবে।

ভারতের প্রধান বিরোধী দল ও এক সময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবার ৯৯টি আসনে জয় পেয়েছে। ২০১৯ সালে তারা ৫২টি আসন জয়ী হয়। এবার তারা বেশ বড় পরিবর্তন দেখেছে। অংশীদারদের নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স বা ইন্ডিয়া আসন পেয়েছে ২৩২টি, যা পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক ভালো ফলাফল।

প্রবীণ বিনিয়োগকারী ডেভিড রোচে নির্বাচনের ফলাফলকে ‘কর্মের অনুশীলন’ বলে অভিহিত করেছেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্ট্র্যাটিজির সভাপতি ও বৈশ্বিক কৌশলবিদ রোচে সিএনবিসিকে বলেন, এটি মোদির হারানোর নির্বাচন ছিল। এটি সবকিছুর ওপর নিজের মুখ এবং উত্তরের প্রধান রাজ্যগুলোতে তিনি হেরেছেন। এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এ থেকে বোঝা যায়, কিছু একটা গড়বড় আছে। তিনি বলেন, এতে প্রমাণ হয়েছে, মোদির হিন্দুত্ববাদের এজেন্ডা ‘হিন্দুপ্রধান এলাকাগুলো’তেই কাজ করছে না। এখন তিনি অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে কাজ করবেন।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম