শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us
বানরের পিঠা ভাগাভাগির অভিযোগ

বাংলাদেশ প্যারেড নিয়ে কমিউনিটিতে তুঘলকি কান্ড!

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০২ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৩৫১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশ প্যারেড নিয়ে কমিউনিটিতে তুঘলকি কান্ড!

 

বাাংলাদেশ ডে প্যারেড কমিউনিটিতে অশান্তির বার্তা দিয়ে গেল। যে প্যারেড নিয়ে হাজারো বাংলাদেশির গর্ব করার কথা ছিল। তা এখন সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে। একে অপরকে দোষারোপ করা হচ্ছে। ৩ লাখ কমিউনিটির প্যারেডে হাজারেরও কম মানুষ অংশ নেয়। কতিপয় নেতা প্যারেড মঞ্চের উপরই একে অপরের বিরোধিতা শুরু করেন। যা সাধারন বাংলাদেশিরা সুনজরে দেখেন নি। এমনকি প্রধান অতিথি নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক এডামস যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন নেতা নামধারী অনেকে কুনুই মেরে মেয়রের পাশে গিয়ে দাঁড়াবার চেষ্ট করেন। এতে মেয়র নিজেও বিব্রত ছিলেন।

দীর্ঘ ২ যুগ পড়ে এই ধরনের প্যারেড নিয়ে কমিউনিটিতে উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু কিছু পদ ও অর্থলোভীদের কারনে তা সফল হয়নি। বরং কমিউনিটিতে অসন্তোষ বিরাজ করছে। চলছে চায়ের টেবিলে একে অপরকে আক্রমন করে কথোপকথন। তা পরিশিলিত ভাষার গন্ডি পেরিয়ে কদর্যতায় রুপ নিচ্ছে। অভিযোগ উঠছে অর্থ কেলেংকারির, অসহযোগিতার ও একঅপরকে আক্রমন করার।
বাংলাদেশ ডে প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৬ মে। কিন্তু এই প্যারেড নিয়ে চলছে নানা চুলছেড়া বিশ্লেষন । বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন প্যারেডের চেয়ারম্যান শাহ শহীদুল হক সাঈদ, আহবায়ক শাহ নেওয়াজ. প্রধান উপদেষ্টা গিয়াস আহমেদ, উপদেষ্টা এটর্নি মঈন চৌধুরী, উপদেষ্টা ফাহাদ সোলায়মান, ও তরিকুল হোসাইন বাদল। বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ প্যারেড কমিটির কেউ না হয়েও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। অভিযুক্তের নিশানা গিয়েছে সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রব মিয়া ও সাধারন সম্পাদক রহুল আমিন সিদ্দিকীর দিকে।

প্যারেড নিয়ে প্রতিবেদকের কথা হচ্ছিল শহিদুল হক সাঈদের সাথে। তার সাথে কথোপকথন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো। প্রশ্ন: কেমন হলো প্যারেড? সাঈদ: আশাপ্রদ হয়নি। তবে ভালো হয়েছে। কমিউনিটির সো কলড কিছু লিডারের কারনে এগোনো যায় নি। আগে দেলোয়ার ও আমিনুল্লাহ’র মতো লোকরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিতেন। এখন তারা আসেন না। নোংরামি করলে ভালো মানুষগুলো আস্তে আস্তে সরে যাবেন। ভালো কাজের উদ্যোগ নিয়েও করা যায় না। এসব করলে কেউ কোন উদ্যোগ নিবে না। ‘অভিযোগ উঠেছে- এই প্যারেড নিয়ে আপনি বানিজ্য করেছেন। সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজের বাসায় গিয়ে প্যারেডের গ্রান্ড মার্শাল হবার প্রস্তাব করেছেন। ২০ হাজার ডলার অনুদানের বিষয়ে কথা হয়েছিল। এসব অভিযোগ কিভাবে খন্ডন করবেন? সাঈদ:প্রথমতঃ আজিজ ভাই আমার এলাকার লোক। তার সাথে আমার ব্যবসাও রয়েছে। তার বাসায় আমি যেতেই পারি। তবে তাকে গ্রান্ড মার্শাল করার কোন প্রস্তাব দেয়া হয়নি। ২০ হাজার ডলার চাওয়া হয় নি। সব মিথ্যে। তবে প্যারেডে তাকে আসার জন্য আমন্ত্রন জানিয়েছিলাম। তিনি সোসাইটির ২ বার সভাপতি ছিলেন। আসলে তাকে আমরা সন্মানিত করতাম। প্যারেড উদ্বোধনও করতে পারতেন। কিন্তু আলোচনার শুরুতেই তিনি বলেছিলেন, ‘হো ইজ শাহ নেওয়াজ? হো ইজ শহিদুল? প্যারেড করলে বাংলাদেশ সোসাইটি করবে।তার এই কথা শোনার পর আলোচনা এগোয়নি। পয়সার গরম নিয়ে কথা বললে সন্মান পাওয়া যায় না। সবাইকেই রিসপেক্ট করে কথা বলতে হবে। তা’হলে প্যারেড কমিটির জুম মিটিং এ আব্দুল আজিজ অংশ নিলেন কিভাবে? জবাবে সাঈদ বলেন, সে প্রশ্নও আমারও। আমি , কনভেনর কিংবা মেম্বার সেক্রেটারি কেউ তাকে জুমের লিংক দেইনি। আর জুম মিটিং এ ঢুকেই তিনি ঝগড়া শুরু করলেন। প্যারেডের গ্রান্ড মার্শাল কে ছিলেন? গাঈদ বলেন, কনভেনর শাহ নেওয়াজ গ্রান্ড মার্শাল ছিলেন। তিনি বক্তৃতার সময় তা বাংলাদেশি ভাইবোনদের উৎসর্গ করেন। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের সাথে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি এলে তাকে গ্রান্ড মার্শাল করা হতো। আমাদের এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কনভেনর গ্রান্ড মার্শাল হয়েছেন এমন অনেক নজির রয়েছে। ৩ লাখ বাংলাদেশির শহরে এতও কম সংখ্যক মানুষকে নিয়ে প্যারেড করতে হলো কেন? জবাবে জ্বনাব সাঈদ বলেন, সকল কর্ণারে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম। যেমন বাংলাদেশ সোসাইটি আসতে চেয়েও সরে গিয়েছে। শুধু তারা সরে যান নি, বিরোীধতা করেছেন। এনিমিটি করেছেন। এর সাথে জড়িত ছিলেন স্বয়ং সভাপতি রব মিয়া ও সেক্রেটারি রুহুল আমিন। তারা অনেক সংগঠনকে প্যারেডে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করেছেন। আর অর্থের বিষয়ে বলতে হয়, অনেক দেনায় আছি প্যারেডের খরচে।

বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রব মিয়ার দৃষ্টি আর্কষন করলে তিনি বলেন, টিবিএন এ বসে তাদের বলেছিলাম বাংলাদেশ সোসাইটি প্যারেডে থাকবে। কিন্তু দ্বিতীয় সভায় গিয়ে দেখলাম আয়োজকরা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ছে। শুরু করে দিয়েছে বানরের পিঠা ভাগাভাগি। রব-রুহল বড় কথা নয়। বাংলাদেশ সোসাইটি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বশীল মাদার সংগঠন। দেখলাম তাদের তালিকায় বাংলাদেশ সোসাইটি ৩ নম্বরে। সেক্রেটারি রুহুল আমিনের নামটি পর্যন্ত নেই।এ বিষয়ে সদস্য সচিব বাদল ও ফাহাদ সোলায়মানের দৃষ্টি আর্কষনও করি। তারা মানুষকে সংগঠিত করতে পারে নি। দেখেছি, তারা শুধু পয়সার হিসেব করেছেন। বাংলাদেশ সোসাইটি সন্মানিত ফিল করেনি। তাই কমিটির সাথে আলেচনা করে প্যারেডে অংশ না নেবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অনুষ্ঠানে গিয়ে মারামারি প্রত্যাশিত নয়। বানরের পিঠা ভাগাভাগি দেখার জন্য সেখানে যেতে পারি না।
প্যারেড কমিটির আহবায়ক শাহ নেওয়াজের দৃষ্টি আর্কষন করলে তিনি বলেন, প্যারেড ভালো হয়েছে। এতও বাধা বিপত্তির মধ্যেও সুষ্ঠু ও সুশৃংখল একটি একটি প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাননীয় মেয়র এরিক এডামস, বাপা ও বিভিন্ন সংগঠন অংশ নিয়ে প্যারেডকে সফল করেছেন। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে মানুষ বাংলাদেশের পতাকা হাতে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। এ জন্য কমিউনিটির ভাইবোনদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যানকে নিয়ে অনেক কথা উঠেছে। তা কিভাবে দেখছেন? জবাবে শাহ নেওয়াজ বলেন, আজিতো প্যারেড কমিটির কেউ নন। তাই তাকে নিয়ে এ বিষয়ে কথা না বলাই শ্রেয়। তা’হলে কমিটির জুম মিটিং এ কিভাবে অয়শ নিয়েছেন তিনি? শাহ নেওয়াজ বলেন, আজিজ ও ফারুক সম্পূর্ন অবৈধভাবে আমাদের জুম মিটিং এ ঢুকে পড়েছিল। তবে শুনেছি, সোসাইটির কাছ থেকে তারা লিংক পেয়েছিল। সোসাইটি তাদের লিংক দিয়ে ঠিক করে নি।

এ ব্যাপারে এ আজিজের দৃষ্টি আর্কষন করলে তিনি বলেন,সাঈদ মিথ্যা কথা বলেছে। প্যারেড কমিটির লোকজনই আমাকে জুম লিংক দিয়েছেন। তারা সভায় যোগ দিতে অনুরোধ করেছেন। গ্রান্ড মার্শাল প্রশ্নে তিনি বলেন, সাঈদ বেশ কয়েকবার গ্রান্ড মার্শাল হবার অনুরোধ করেছেন। আমি রাজি হয় নি। তিনি কি প্যারেডের জন্য ডোনেশন চেয়েছিলেন? আজিজ বলেন, সত্য। তিনি চেয়েছিলেন।তবে আমি দেইনি। আমি সাঈদকে বলেছি, তুমি প্যারেড আয়োজন করার কে? করলে সোসাইটি করবে। বাংলাদেশ সোসাইটি সিটির কাছে পারমিটের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু সোসাইটি জানতে পারে সাঈদ আগেই পারমিট নিয়ে রেখেছে।
এম এ আজিজ প্যারেড প্রসংগে বলেন, আপনারা সত্য সংবাদটি লিখছেন না। পয়সার কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। বিবেককে বন্ধক রেখেছেন। আপনারা সত্য কথা লিখলে কমিউনিটি এগিয়ে যেত। গত কয়েকদিনে এতও কিছু ঘটলো। একজন সাংবাদিক কলম ধরলেন না। আপনারাই সমাজকে নষ্ট করছেন।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম